স্কটল্যান্ডে একসঙ্গে ৫০টির বেশি তিমির মৃত্যুরহস্য উদঘাটন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬ , ০৯:৪৩ পিএম


স্কটল্যান্ডে একসঙ্গে ৫০টির বেশি তিমির মৃত্যুরহস্য উদঘাটন
ছবি: সংগৃহীত

স্কটল্যান্ডের উপকূলে প্রায় তিন বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনায় ৫০টির বেশি পাইলট তিমির মৃত্যুর পেছনে নতুন কারণ খুঁজে পেয়েছেন গবেষকেরা।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে উঠে এসেছে, দলের একটি সদস্যকে রক্ষা করতে গিয়েই পুরো তিমির দল অগভীর পানিতে ঢুকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বিপর্যয়ের শিকার হয়।

২০২৩ সালের ১৬ জুলাই স্কটল্যান্ডের আইল অব লুইস দ্বীপের টলস্টা উপসাগরের অগভীর পানিতে ৫৪টি পাইলট তিমির একটি দল আটকা পড়ে। পাইলট তিমি ডলফিন পরিবারের একটি প্রজাতি, যারা নিজেদের দলে অত্যন্ত শক্ত সামাজিক বন্ধনের জন্য পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

স্কটিশ সরকারের মেরিন ডিরেক্টরেট ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চালায়। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের স্যান্ডে এলাকায় ঘটে যাওয়া আরেকটি তিমি আটকে পড়ার ঘটনাও পর্যালোচনা করা হয়। গত ৫ মার্চ প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার আগে তিমিগুলোর বেশিরভাগই সুস্থ ছিল।

তবে দলের একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী তিমি সন্তান প্রসবের সময় জটিলতার মুখে পড়েছিল। সাধারণত বড় আকারের বা ভুল অবস্থানে থাকা বাচ্চার কারণে এমন জটিল প্রসব দেখা দেয়। গবেষকদের ধারণা, ওই তিমির বিপদের সময় তাকে ঘিরে থাকতে গিয়ে অন্য তিমিগুলোও তার পেছন পেছন উপকূলের দিকে চলে আসে।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু তীরের কাছাকাছি অগভীর পানিতে পৌঁছানোর পর প্রবল স্রোত, বাতাস এবং বালুময় সমুদ্রতলের কারণে তারা আর গভীর সমুদ্রে ফিরে যেতে পারেনি। এতে পুরো দলই উপকূলের কাছে আটকা পড়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আটকে পড়া ৫৪টি তিমির মধ্যে মাত্র একটি তিমিকে আবার গভীর সমুদ্রে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। বাকি তিমিগুলো হয় ডুবে মারা যায়, নয়ত তাদের কষ্ট কমাতে শেষ পর্যন্ত মেরে ফেলতে হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

স্কটিশ মেরিন অ্যানিম্যাল স্ট্র্যান্ডিং স্কিমের প্রধান বিজ্ঞানী ড. অ্যান্ড্রু ব্রাউনলো বলেন, তিমিদের দলবদ্ধভাবে আটকে পড়ার ঘটনা সাধারণত একক কোনো কারণে ঘটে না। বরং প্রাণীর শারীরিক অবস্থা, তাদের সামাজিক আচরণ এবং সমুদ্রের পরিবেশগত পরিস্থিতি— সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবে এমন ঘটনা ঘটে।

তার মতে, গভীর পানিতে বিপদে পড়া কোনো সদস্যকে ঘিরে থাকা তিমিদের স্বাভাবিক আচরণ হলেও এই ক্ষেত্রে সেটিই পুরো দলকে অগভীর উপসাগরে টেনে নিয়ে যায়। উপসাগরের ধীরে ঢালু সমুদ্রতল ও পানিতে ভাসমান সূক্ষ্ম বালুকণার কারণে সেখানে এক ধরনের ‘অ্যাকোস্টিক ট্র্যাপ’ তৈরি হয়েছিল। ফলে তিমিরা তাদের ইকোলোকেশন সংকেত ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারেনি এবং নিরাপদে গভীর পানিতে ফেরার পথও খুঁজে পায়নি। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission