লারিজানিকে হত্যায় ইরানের নেতৃত্ব ভাঙবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ০৪:৪৭ পিএম


লারিজানিকে হত্যায় ইরানের নেতৃত্ব ভাঙবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি ও বাসিজ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যার পরও তেহরানের নেতৃত্ব ভেঙে পড়বে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। 

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৮ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্র নয়। বরং এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সাক্ষাৎকারে আরাগচি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার বা ব্যবস্থা কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে থমকে যায় না। আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী। অবশ্যই প্রতিটি ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কারো শাহাদাত এই কাঠামোকে অচল করতে পারবে না।" 

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

তিনি আরও বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মতো মহীরুহকে হারানোর পরও ইরানের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা এক মুহূর্তের জন্যও থমকে থাকেনি এবং দ্রুত বিকল্প নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়েছে। 

এর আগে গত সোমবার (১৬ মার্চ) রাতে এক ভয়াবহ হামলায় ৬৭ বছর বয়সী আলী লারিজানি নিহত হন। তিনি নিহত আলী খামেনি ও বর্তমান উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যুদ্ধ শুরুর ১৯ দিনের মাথায় লারিজানিই এখন পর্যন্ত নিহত হওয়া সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। 

বিজ্ঞাপন

এর একদিন পরই মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে, দেশটির শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলামরেজা সোলেইমানিও ‘আমেরিকান-জায়নবাদী’ শত্রুর হামলায় শহীদ হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ছয় বছর ধরে বাসিজ বাহিনীর কমান্ডারের দায়িত্বে থাকা সোলেইমানি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর ছিলেন। 

আল-জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘গ্যাংস্টারসুলভ সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতাদের টার্গেট করা কোনো স্বাভাবিক নিয়ম নয়। ইসরায়েল যা করছে তা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।" 

বিশারা মনে করেন, যদিও একজনের মৃত্যুতে ইরান ভেঙে পড়বে না, তবে এই ধরনের ধারাবাহিক লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে গুণগত পরিবর্তনের সৃষ্টি করতে পারে।

সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি আরও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই সংঘাত তেহরানের কাম্য নয়। তিনি এই যুদ্ধের সব মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির জন্য সরাসরি ওয়াশিংটনকে অভিযুক্ত করেন। 

আরাগচি বলেন, "আমি আবারও বলছি—এই যুদ্ধ আমাদের পছন্দ নয়, আমরা এটি শুরু করিনি। যুক্তরাষ্ট্র এটি শুরু করেছে এবং এর প্রতিটি পরিণতির জন্য তাদেরই জবাবদিহি করতে হবে।"

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission