ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কঠোর এক সিন্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ড। নিজেদের ঐতিহাসিক ‘নিরপেক্ষতা নীতি’ বজায় রাখতে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম ও অস্ত্র রপ্তানির অনুমোদন স্থগিত করেছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সুইজারল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সুইজারল্যান্ড সরকার জানায়, “ইরানের সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতের লিপ্ত রয়েছে এমন কোনো দেশে এই মুহূর্ত থেকে যুদ্ধের সরঞ্জাম রপ্তানি করা হবে না।”
দেশটির ফেডারেল কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কোনো নতুন অস্ত্র রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব নয়। যদিও এই বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য তারা প্রকাশ করেনি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতির বিপরীতে এটি সুইজারল্যান্ডের একটি বড় কূটনৈতিক বার্তা।
এদিকে, বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানো ইরানের ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরোধ সরাতে এবার একজোট হচ্ছে বিশ্বের ক্ষমতাধর কয়েকটি দেশ। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ছয়টি দেশ—ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস মিলে একটি বিশেষ নৌ-মিশন গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও এর অর্থ এই নয় যে এখনই জাহাজগুলো প্রণালির দিকে যাত্রা করবে, তবে এই জোটটি অবরুদ্ধ জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই মিত্র দেশগুলোর ওপর এই অবরোধ সরাতে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এই যৌথ মিশনটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যদিও ছয়টি দেশ এই মিশনের জন্য নীতিগতভাবে একমত হয়েছে, তবে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে। দেশ দুটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক বা উদ্ধার অভিযান শুরু করার আগে সেখানে অবশ্যই একটি ‘কার্যকর যুদ্ধবিরতি’ অথবা অন্তত সাময়িকভাবে সংঘাত নিরসন করতে হবে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ জানিয়েছেন, চলমান আগুনের গোলার মধ্যে কোনো মিশন পরিচালনা করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এই মিশনের জন্য জাতিসংঘের একটি আইনি কাঠামো বা ‘ইউএন ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, কেবল মার্কিন নেতৃত্বাধীন নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে এই অভিযান পরিচালনা করা উচিত
আরটিভি/এআর




