১ লাখ বছর ধরে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির গভীরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর বিপদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:২৭ পিএম


১ লাখ বছর ধরে ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির গভীরে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর বিপদ
মেথানা আগ্নেয়গিরির সাম্প্রতিকতম অগ্নুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা (বাদামী অংশ) সমুদ্রে গিয়ে মিশছে। ছবি: ইটিএইচ জুরিখ

গ্রিসের মেথানা আগ্নেয়গিরি নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। রাজধানী এথেন্স থেকে ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমের এই আগ্নেয়গিরিটি গত এক লাখ বছর ধরে শান্ত ছিল। কোনো লাভা উদ্‌গিরণ কিংবা ছাইয়ের মেঘ তৈরি না হওয়ায় বিজ্ঞানীদের কাছে এটি দীর্ঘদিন ধরে মৃত বা নিষ্ক্রিয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। কিন্তু নতুন একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে, বাইরে থেকে শান্ত মনে হলেও এর গভীরে জেগে উঠছে ভয়াবহ বিপদের হাতছানি।

সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভান্সেস সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, এই আগ্নেয়গিরির গভীরে থাকা ম্যাগমা চেম্বারগুলোতে বিপুল পরিমাণ ম্যাগমা জমা হচ্ছে। পৃথিবী পৃষ্ঠে কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও ভূগর্ভের ভেতরে আগ্নেয়গিরিটি রীতিমতো শ্বাস প্রশ্বাস নিচ্ছে। এই আবিষ্কারের পর সারা বিশ্বের নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। 

বিজ্ঞানীরা আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা চেম্বারের গভীরে জমে থাকা ক্ষুদ্র জিরকন স্ফটিক বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। ইটিএইচ জুরিখের আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ অলিভিয়ার বাখমান এই স্ফটিকগুলোকে ছোট ছোট ফ্লাইট রেকর্ডারের সঙ্গে তুলনা করেছেন। 

তিনি জানান, পৃথিবী পৃষ্ঠে কোনো উদ্‌গিরণ না ঘটলেও হাজার হাজার বছর ধরে ভূগর্ভে ম্যাগমার যে উত্থান পতন চলে, জিরকন স্ফটিকগুলো সেই ইতিহাস নিজের ভেতর ধারণ করে রাখে।

আরও পড়ুন

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ এক লাখ বছরের নীরবতার মধ্যেও মেথানার নিচে অবিরাম ম্যাগমা তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়ায় জলীয় বাষ্পের বিশেষ ভূমিকার কথা জানিয়েছেন। সমুদ্রতলের পলি এবং বিপুল পরিমাণ জল ভূগর্ভের গভীরে প্রবেশ করে ম্যান্টলকে প্রভাবিত করে। যাকে বিশেষজ্ঞরা হাইড্রেশন বা জলীয়করণ বলছেন। এই প্রক্রিয়ার কারণে ম্যাগমা উৎপাদন এবং স্ফটিকায়ন প্রক্রিয়া অনেক বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।

ড. বাখমান সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আগ্নেয়গিরি ঝুঁকি মূল্যায়নকারী সংস্থাগুলোর জন্য এটি একটি বড় বার্তা। গ্রিস, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে এমন অনেক আগ্নেয়গিরি আছে যেগুলো হাজার বছর ধরে শান্ত। কিন্তু এই গবেষণা প্রমাণ করে যে দীর্ঘ সময় নীরব থাকা মানেই সেটি নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়। বরং নীরবতার অন্তরালে এটি ভেতরে ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে।

গবেষকদের মতে, এ ধরনের জলসমৃদ্ধ ম্যাগমা আগ্নেয়গিরির স্ফটিকায়ন ত্বরান্বিত করে, যা হঠাৎ করেই পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। গবেষক রাজভান গ্যাব্রিয়েল পোপা বলেন, অনেক সাবডাকশন জোনের আগ্নেয়গিরিই এমন আদিম ম্যাগমা দ্বারা পুষ্ট হয়, যা এখনো বিজ্ঞানের মূলধারায় পুরোপুরি স্বীকৃত নয়।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission