ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধে না জড়িয়েও বড় বিপদের মুখে জার্মানি! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক কোনো সংঘাতে লিপ্ত না থেকেও ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে জার্মানি। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দেশটির কর্পোরেট খাতে দেউলিয়া হওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গেছে। এর ফলে জার্মানির শ্রমবাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এবং অন্তত দুই লাখ কর্মীর চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার আঁচ লেগেছে জার্মানির উৎপাদন ও বাণিজ্য খাতে, যা দেশটির শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য এক কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।

জার্মানিতে কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের কারণে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে ক্রেডিট ইনস্যুরার অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেড। প্রতিষ্ঠানটি তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দেশটির ব্যবসায়িক কাঠামো ভেঙে পড়ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। এসব কারণে জার্মানির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এখন বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে গত ১৪ বছরের মধ্যে এ বছর দেউলিয়াত্বের সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের জার্মানি, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ড শাখার প্রধান মিলো বোগার্টস জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতিকে যে স্থবিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে।

তিনি বলেন, কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের যে ধারা শুরু হয়েছে তাতে এ বছর জার্মানিতে দেউলিয়া হওয়ার ঘটনা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সব মিলিয়ে বছরে ২৪ হাজার ৬৫০টি কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা দেশটির কর্মসংস্থান পরিস্থিতির ওপর সরাসরি আঘাত আনছে।

আরও পড়ুন

গত বছরের পরিসংখ্যানেও এমন অশনি সংকেতের দেখা মিলেছিল। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর স্থানীয় আদালতগুলোতে ২৪ হাজার ৬৪টি দেউলিয়াত্বের মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল। যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০.৩ শতাংশ বেশি ছিল।

তবে এ পরিস্থিতি কেবল জার্মানি নয়, বরং বৈশ্বিক পর্যায়েও উদ্বেগজনক। অ্যালিয়েঞ্জ ট্রেডের মতে, সামগ্রিকভাবে বিশ্বব্যাপী কর্পোরেট দেউলিয়াত্বের হার ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তাদের পূর্বের পূর্বাভাস সংশোধন করে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন ভেঙে পড়া এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বেশি নির্ভরশীল, তারা এই মন্দার কবলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির একটি ক্ষীণ আশা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, আগামী বছরে জার্মানিতে দেউলিয়া হওয়ার সংখ্যা ২ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ১৫০টিতে নেমে আসতে পারে। যুদ্ধজনিত উত্তেজনা যদি ধীরে ধীরে প্রশমিত হয় এবং সরকার যদি অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর করতে পারে, তবে জার্মানি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে / মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ
প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে দক্ষ ধাত্রীসেবা বা মিডওয়াইফারির কার্যকর সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের এক সাইড ইভেন্টে।
মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে ধাত্রীসেবা জোরদারের তাগিদ
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে বাংলাদেশের নতুন করে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি সই হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 
বাংলাদেশকে নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোস্ট
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুসজ্জিত সামরিক বিমান উড়িয়ে এবং ১০০ ফুট (৩০ মিটার) দীর্ঘ লালগালিচা বিছিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে লালগালিচা সংবর্ধনা জানিয়েছেন।
লালগালিচায় চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানালেন ট্রাম্প
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি জনগণ বর্তমানে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক ও সংকটময় সময় পার করছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
ইতিহাসের অন্যতম বিপজ্জনক সময় পার করছে ফিলিস্তিনিরা: মাহমুদ আব্বাস
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন বিশ্বনেতারা। এমন সময় বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধ, সংঘাত ও কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অতীতের স্মরণীয় ঘটনাগুলোও ফিরে আসছে আলোচনায়। জাতিসংঘের ইতিহাসের এমন কিছু স্মরণীয় ও আলোচিত মুহূর্ত নিচে তুলে ধরা হলো— ফিদেল কাস্ত্রোর সাড়ে ৪ ঘণ্টার ম্যারাথন ভাষণ (১৯৬০)  জাতিসংঘের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ভাষণের রেকর্ডটি কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর দখলে। ১৯৬০ সালে নিজের প্রথম ভাষণে তিনি টানা ৪ ঘণ্টা ২৯ মিনিট বক্তব্য দেন। এই সময়ে তিনি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কড়া সমালোচনা করেন এবং কিউবান বিপ্লবের আদর্শ তুলে ধরেন। Politics নিকিতা ক্রুশ্চেভের টেবিল চাপড়ানো (১৯৬০) ১৯৬০ সালের অধিবেশনে পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ নিজের টেবিলে সজোরে ঘুষি মারতে থাকেন। এই অধিবেশন ঘিরেই তার জুতা খুলে টেবিলে আঘাত করার ঐতিহাসিক কিংবদন্তি চালু হয়। হুগো চ্যাভেজ ও ‘শয়তানের গন্ধ’ (২০০৬) ২০০৬ সালে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ পডিয়ামে উঠে বুকে ক্রস আঁকেন এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘গতকাল এখানে শয়তান এসেছিল। আজও এখানে গন্ধকের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।’ গাদ্দাফির সনদ ছিঁড়ে ফেলা (২০০৯)  লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ২০০৯ সালে ১৫ মিনিটের সময়সীমা ভেঙে টানা ১০০ মিনিট বক্তব্য দেন। নিরাপত্তা পরিষদকে ‘সন্ত্রাস পরিষদ’ আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদের একটি পাতা ছিঁড়ে কাঁধের ওপর দিয়ে ছুড়ে ফেলেন তিনি। নেতানিয়াহুর কার্টুন বোমা (২০১২)  ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অগ্রগতি বোঝাতে অধিবেশনে বোমার একটি বড় কার্টুন চিত্র প্রদর্শন করেন এবং একটি লাল কালি দিয়ে সেখানে সীমারেখা টানেন। ট্রাম্পের ‘রকেট ম্যান’ মন্তব্য (২০১৭)  ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমাণবিক উত্তেজনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন এবং দেশটির নেতা কিম জং উনকে ‘রকেট ম্যান’ বলে উপহাস করেন। Politics(Right) গিলাদ এরদানের সনদ শ্রেড করা (২০২৪)  ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদের একটি প্রস্তাবের প্রতিবাদে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত গিলাদ এরদান একটি ছোট পেপার শ্রেডার মেশিন দিয়ে অধিবেশনের সামনেই জাতিসংঘ সনদের প্রচ্ছদ পাতা কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলেন। ট্রাম্পের ‘এস্কেলেটরগেট’  সম্প্রতি জাতিসংঘের মূল ভবনে প্রবেশের সময় এস্কেলেটর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয়। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে অভিযোগ করলেও জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা একজন ভিডিওগ্রাফার ভুলবশত এস্কেলেটরের ইমার্জেন্সি স্টপ বোতামে চাপ দেওয়ায় এটি বন্ধ হয়ে যায়। এসব নাটকীয় ঘটনা ছাড়াও দীর্ঘ ভাষণ ও ক্লান্তিকর সূচির কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ব নেতাদের ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ভাইরাল হয়েছে। ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। সূত্র: ওয়াননিউজ আরটিভি/এসআর
জুতা দিয়ে টেবিলে আঘাত থেকে সনদ ছেঁড়া, জাতিসংঘে স্মরণীয় সব মুহূর্ত
আরও পড়ুন
জার্মানিতে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত
স্পিকারের সঙ্গে জার্মানির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
বিমানে জার্মানি গেল মশা, অতঃপর...
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের দারুণ সুযোগ দিচ্ছে জার্মানি