যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়েহকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ জামিল লিমনের মরদেহ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ওপর শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি এখনও নিখোঁজ। তবে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া রক্তের আলামতের ভিত্তিতে তদন্তকারীদের ধারণা, তিনিও হত্যার শিকার হতে পারেন।
এই ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী হিশামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শারীরিক হামলা, জোর করে আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা, মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখা এবং মরদেহ সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, হিশাম আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। ২০২৩ সালে তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতার অভিযোগ ওঠে এবং তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। এমনকি তার নিজের পরিবারের পক্ষ থেকেও তার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করা হয়েছিল এবং আদালত থেকে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারের সময়ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। হিশাম নিজেকে একটি বাড়ির ভেতরে আটকে রাখলে তাকে বের করতে সোয়াট টিম ও আলোচক দল মোতায়েন করা হয়। পরে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
নিহত জামিল লিমন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের একজন গবেষক। তিনি পরিবেশ ও ভূগোল নিয়ে গবেষণা করছিলেন এবং ভবিষ্যতে দেশে ফিরে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। পরিবার জানিয়েছে, নাহিদা বৃষ্টির সঙ্গে তার বিয়ের কথাও চলছিল।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশে ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান রয়েছে এবং নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত আছে।
আরটিভি/জেএমএ



