যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কার্যত শেষ হয়েছে। শুক্রবার(১মে) কংগ্রেস নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানান, যুদ্ধবিরতির পর থেকে আর কোনো সংঘর্ষ হয়নি এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া শত্রুতার সমাপ্তি ঘটেছে।
তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের হুমকি এখনো গুরুত্বপূর্ণ এবং তা মোকাবিলায় প্রস্তুতি অব্যাহত থাকবে।
চিঠিতে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধে তার কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে সেনা মোতায়েন বা অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে কংগ্রেসকে অবহিত করা হবে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনাদের পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে ইরান ও তার মিত্রদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে।
এদিকে, সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জিন শাহীনের প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ৬০ দিনের সংঘাতের পরও ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট কৌশল বা ‘এক্সিট প্ল্যান’ নেই। তিনি এই সময়সীমাকে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
প্রসঙ্গত, ওয়ার পাওয়ারস রেজুলেশন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে পারেন। এরপর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয় অথবা সীমিত সময়ের মধ্যে সেনা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিতে হয়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও এখনো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি হয়নি। একই দিনে ট্রাম্প পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দেওয়া ইরানের সংশোধিত প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অগ্রগতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
তথ্যসূত্র : শাফাক নিউজ
আরটিভি/এসকে



