যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের তিনটি খালি তেলের ট্যাংকার অবশেষে নিজ দেশে ফিরে গেছে।
শুক্রবার (৮ মে) জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘ট্যাংকার ট্র্যাকার্স’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটি জানায়, গত দুই দিনে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ব্যবহার করে ট্যাংকারগুলো সফলভাবে ইরানি জলসীমায় প্রবেশ করে। স্যাটেলাইট ছবিতে ইতিমধ্যে দুটি ট্যাংকারকে শনাক্ত করা গেছে।
অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক তৎপরতা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নিজেদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সৌদি আরব ও কুয়েত। এর ফলে থমকে যাওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান পুনরায় চালুর পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই আবারও এই অভিযান শুরু হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে গত রোববার হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে আনতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ঘোষণার দুদিন পরই তিনি হঠাৎ সিদ্ধান্ত বদল করেন। তখন ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি অভিযান থেকে পিছিয়ে এসেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, সৌদি আরব ও কুয়েত এই অভিযানের জন্য তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ট্রাম্প পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিলেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্প যখন প্রথমবার এই অভিযানের ঘোষণা দেন, তখন আরব দেশগুলো বেশ অবাক হয়েছিল। কারণ এত বড় একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের সঙ্গে কোনো আগাম আলোচনা করেনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে ফোন করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সেই ফোনালাপেও দুই নেতা কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
আরটিভি/এআর



