ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভবিষ্যতে কোনো শান্তি চুক্তি হলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘমেয়াদে তেহরানের হাতেই থাকবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্বালানি ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা আমোস হোচস্টাইন সম্প্রতি ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে এই জলপথে ইরানের একচ্ছত্র প্রভাব কমার সম্ভাবনা খুবই কম।
হোচস্টাইনের মতে, ওয়াশিংটন হয়তো কাগজে-কলমে জলপথ উন্মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারে, কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলো তা সহজে বিশ্বাস করবে না। কারণ তারা জানে, এই রুটে ইরানের কার্যত ‘ভেটো’ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চললেও ট্রাম্প ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছেন। অন্যদিকে, তেহরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চলমান এই উত্তেজনার প্রভাবে এরই মধ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার আগামী জুন মাস পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিতে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। যদিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বিকল্প পাইপলাইনের মাধ্যমে আংশিক রপ্তানি সচল রেখেছে এবং ইরাকও সিরিয়া ও তুরস্ক হয়ে বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হোচস্টাইন বলেন, তেলের প্রকৃত দামে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। কাগজে-কলমে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১০ ডলার দেখালেও বাস্তবে অনেক দেশকে ১৫০ থেকে ১৭০ ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার মতো দরিদ্র দেশে এই দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮৬ ডলারে পৌঁছেছে।
সাবেক এই উপদেষ্টা সতর্ক করে বলেন, দরিদ্র দেশগুলোতে শুরু হওয়া এই জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া হয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতেও আঘাত হানতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন ইরানকে এড়িয়ে বিকল্প জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তুলতে শতকোটি ডলার বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
আরটিভি/এআর



