পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আজ শনিবার ব্রিগেডে শপথ নেবেন শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক একই সময়ে কলকাতার কালীঘাটের নিজ বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল নেত্রীর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি। খবর আনন্দবাজারের।
তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, মমতার বাড়ির চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন এবং রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজভবন বা ব্রিগেডের শপথ অনুষ্ঠানের সমান্তরালে কালীঘাটের এই আয়োজন তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শনের একটি ভিন্ন কৌশল হতে পারে।
এদিকে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দলটি দাবি করে, তিনটি অরাজনৈতিক সংগঠন রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুমতি চাইলেও পুলিশ তা দেয়নি। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের যেখানে সম্ভব সেখানে দিবসটি পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূল যেভাবে সাড়ম্বরে রবীন্দ্রজয়ন্তী বা রাখি পূর্ণিমা পালন করত, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন খোদ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই মুহূর্তে দলটির মূল অগ্রাধিকার হচ্ছে রাজ্যজুড়ে ‘আক্রান্ত’ কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। দুই দিন আগে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে করা বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা নেতাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজেপির কথিত হামলার প্রতিবাদে এলাকায় মিছিল করতে।
শনিবারের অরাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের ভবিষ্যৎ বা নতুন কোনো রাজনৈতিক বার্তা দেন কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর। যদিও জেলা পর্যায়ের অনেক নেতা জানিয়েছেন, রাজ্যের সর্বত্র বর্তমানে মিছিল বা বড় কর্মসূচি করার মতো অনুকূল পরিবেশ নেই। সব মিলিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অভিষেক ও মমতার এই পাল্টা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ উত্তপ্ত।
আরটিভি/এআর



