ইরানের কাছে থাকা সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে সেগুলো নিরাপদ সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শনিবার (৯ মে) মস্কোতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ২০১৫ সালেও ইরান থেকে সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে পুতিন জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও তারা একই ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান সংঘাতের সঙ্গে জড়িত সব পক্ষই আগে ইরান থেকে ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাবে একমত হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ তাদের অবস্থান বদলে দাবি করে, এই ইউরেনিয়াম কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই নিয়ে যেতে হবে, যা তেহরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
পুতিন জানান, এই সংকট নিরসনে এবং যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।
তবে, পুতিনের এই প্রস্তাবের বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই ইউরেনিয়াম স্থানান্তর প্রক্রিয়া একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মজুত থেকে ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধিতে উন্নীত হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট।
এদিকে, পর্দার আড়ালে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন মোড় নিচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দাবি করেছে। এক পৃষ্ঠার একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বিরোধ নিষ্পত্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখবে এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ জব্দ করা বিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে। খবর মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের।
এছাড়া সমঝোতা অনুযায়ী উভয় পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেবে।
আরটিভি/এআর



