ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার ধীরগতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে তেহরানের বর্তমান আচরণে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প দেশটিতে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এবং পরমাণু আলোচনায় ইরানের অনড় অবস্থানে ট্রাম্পের ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আসা সর্বশেষ জবাবকে ট্রাম্প ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেছেন। এর ফলে মার্কিন প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা এখন প্রশ্ন তুলছেন, তেহরান আদৌ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় কি না।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের মধ্যে বর্তমানে দুটি ভিন্ন মত দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা চালানোর মতো আগ্রাসী পদক্ষেপের পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের একটি অংশ এখনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে শেষ সুযোগ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ওয়াশিংটন চাইছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান যেন ইরানের ওপর আরও কঠোর চাপ সৃষ্টি করে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার গুরুত্ব পাকিস্তান সঠিকভাবে তেহরানের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। এমনকি পাকিস্তান ইরান সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে কিছুটা নমনীয় বা ভুল তথ্য দিচ্ছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
এদিকে গতকাল সোমবার (১১ মে) হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন ট্রাম্প। তবে মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে তার চীন সফরের আগে চূড়ান্ত কোনো সামরিক সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।
আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে এটা বোঝানোর চেষ্টা চলছে যে এটিই কূটনীতির শেষ সুযোগ; কিন্তু তেহরান বিষয়টি এখনো গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। এই অনড় অবস্থানের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিচ্ছে।
আরটিভি/এআর




