ঢাকা শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

কোনো মূল্য দিয়ে ইরানের সঙ্গে চুক্তি করবে না যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চাইলেও কোনো মূল্য দিয়ে চুক্তি করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের সম্ভাব্য ফি বা কর আরোপের পরিকল্পনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

শুক্রবার (২৬ জুন) বাহরাইনে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা একটি চুক্তি চাই, তবে তা যেকোনো মূল্য দিয়ে নয়। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে এমন কোনো চুক্তি হবে না যা উপসাগরীয় অঞ্চলে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারদের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে বিন্দুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায়। সেই সমঝোতার আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি তেহরানের সমর্থনের বিষয়টি এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বাহরাইনের বৈঠক শেষে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়েরও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) হরমুজ প্রণালিতে ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, জাহাজটির ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য যুদ্ধের কারণে ওই অঞ্চলে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এর ওপর কোনো রাষ্ট্র এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বা ফি আরোপ করতে পারে না। আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো একক রাষ্ট্রের মালিকানাধীন নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বৈশ্বিক নীতি ভেঙে গেলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। জিসিসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাও তাদের যৌথ বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে নিঃশর্ত ও বাধাহীন মুক্ত নৌচলাচলের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অবশ্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালির জন্য যে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, তাতে জাহাজ চলাচলের ওপর কোনো ট্রানজিট ফি আরোপের বিষয় নেই। যদিও এর আগে ওমান ও ইরান যৌথভাবে জানিয়েছিল, প্রণালিতে দেওয়া বিভিন্ন সেবার জন্য সম্ভাব্য নতুন চার্জ নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।

গত সপ্তাহে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে আগামী ৬০ দিন সম্পূর্ণ বিনা খরচে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই সুনির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সেখানে কী ধরনের স্থায়ী ব্যবস্থা কার্যকর হবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইরানের কেশম দ্বীপে ফের হামলা, আলোচনায় অগ্রগতির দাবি ট্রাম্পের
ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের কেশম দ্বীপে ফের হামলা, আলোচনায় অগ্রগতির দাবি ট্রাম্পের
পশ্চিমাদের ছাড়িয়ে সামরিক হেলিকপ্টার সক্ষমতায় চীনের আধিপত্য
চীনের সামরিক হেলিকপ্টার সক্ষমতায় দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে। বিশেষায়িত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, আধুনিক পরিবহন হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিনবিধ্বংসী ও উভচর অভিযানের উপযোগী নৌ-হেলিকপ্টার তৈরিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ফলে সামরিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তিতে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ক্রমেই শক্ত অবস্থান তৈরি করছে বেইজিং। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক হেলিকপ্টার কর্মসূচি অন্যান্য সামরিক প্রকল্পের তুলনায় কম আলোচিত হলেও, এ খাতে দেশটির অগ্রগতি প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিফলন। চীনের আক্রমণকারী হেলিকপ্টার বহরের অন্যতম প্রধান শক্তি জেড-১০। ২০০৩ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর ২০১০ সালে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। দুই আসনবিশিষ্ট এই হেলিকপ্টার থেকে ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ছোড়া যায়। এতে রয়েছে উন্নত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল লক্ষ্য নির্ধারণ ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষামূলক পাল্টাব্যবস্থা। পরবর্তী সংস্করণগুলোতে যুক্ত হয়েছে উন্নত বর্ম, সতর্কতামূলক সেন্সর ও দীর্ঘপাল্লার গাইডেড অস্ত্র। রপ্তানির জন্য তৈরি জেড-১০এমই সংস্করণে মূল রোটরের ওপরে মিলিমিটার-ওয়েভ রাডার সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেড-১০-এর পাশাপাশি জেড-১৯ হেলিকপ্টারও অনুসন্ধান ও আক্রমণ অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে। চীনের হেলিকপ্টার সক্ষমতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বড় আকারের জেড-২১। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসা এই হেলিকপ্টারকে দেশটির প্রথম ভারী অ্যাটাক হেলিকপ্টার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। জেড-১০-এর তুলনায় এতে উন্নত সুরক্ষাব্যবস্থা, বিস্তৃত সেন্সর এবং বেশি অস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। রাশিয়ার এমআই-২৮ ও কেএ-৫২ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এএইচ-৬৪-এর মতো হেলিকপ্টারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এদিকে, চীনের হেলিকপ্টার আধুনিকায়ন কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ জেড-২০ সিরিজ। ২০১৩ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর ২০১৯ সালে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দুটি ডব্লিউজেড-১০ টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনচালিত এই হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ সরঞ্জামসহ সর্বোচ্চ ১৩ জন সদস্য পরিবহন করতে পারে। আধুনিক অ্যাভিওনিকস, উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও বহুমুখী ব্যবহারের সক্ষমতার কারণে জেড-২০-এর একাধিক বিশেষ সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে জেড-২০কে পরিবারের পরিবহন ও আক্রমণ সংস্করণ এবং সশস্ত্র অভিযানের জন্য তৈরি জেড-২০টি উল্লেখযোগ্য। জেড-২০টি থেকে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট নিক্ষেপের পাশাপাশি বাহ্যিক জ্বালানি ট্যাংক বহন করা যায়। নৌবাহিনীর জন্য তৈরি জেড-২০এফ সংস্করণটি বিশেষভাবে সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের উপযোগী। এতে রয়েছে পানির নিচে নামানো যায় এমন সোনার, সোনোবুই মোতায়েনের ব্যবস্থা এবং হালকা টর্পেডো বহনের সক্ষমতা। অন্যদিকে, জাহাজ থেকে পরিবহন ও আক্রমণ অভিযান পরিচালনার জন্য তৈরি হয়েছে জেড-২০জে সংস্করণ। এর ফলে চীনের যুদ্ধজাহাজ ও উভচর অভিযানে ব্যবহৃত জাহাজগুলো থেকে আরও বিস্তৃত সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। বিভিন্ন ধরনের সামরিক অভিযানে ব্যবহারের উপযোগী সংস্করণ থাকায় জেড-২০-কে চীনের অন্যতম বহুমুখী হেলিকপ্টার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরোনো জেড-৮ সিরিজেও ব্যাপক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পরিবহন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং আকাশপথে কমান্ড পরিচালনার মতো কাজে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা হয়েছে এই সিরিজের হেলিকপ্টারগুলোকে। তবে চীনের পরিবহন হেলিকপ্টার বহরে এখনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রাশিয়ার তৈরি এমআই-১৭ ও এমআই-১৭১। কঠিন পরিবেশে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং বিশেষায়িত সহায়তা প্রদানে এসব হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে, চীনের নৌবাহিনীতে রাশিয়ার কেএ-২৮ সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের হেলিকপ্টার এবং কেএ-৩১ আকাশপথে রাডার পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাহাজ থেকে পরিচালনাযোগ্য জেড-২০-এর বিভিন্ন সংস্করণের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে চীনের নৌবাহিনীর সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ ও উভচর আক্রমণ সক্ষমতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে পুরোনো রুশ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। এ ছাড়া আরও বেশি ভার বহনে সক্ষম একটি নতুন হেলিকপ্টার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে চীনের। এটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার এমআই-২৬-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে পারবে বেইজিং। বর্তমানে ভারী মালামাল পরিবহনের সক্ষমতায় এমআই-২৬ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় হেলিকপ্টার। সব মিলিয়ে, আক্রমণ, পরিবহন, নৌ-অভিযান ও সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজস্ব হেলিকপ্টার প্রযুক্তির বিকাশের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন। এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক সামরিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আরটিভি/এসকে
পশ্চিমাদের ছাড়িয়ে সামরিক হেলিকপ্টার সক্ষমতায় চীনের আধিপত্য
ধর্ষণকাণ্ডে আস্থা হারালেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস করেছেন শিক্ষক প্রতিনিধিরা।
ধর্ষণকাণ্ডে আস্থা হারালেন কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর এবার গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার মেগানের বাবা
ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ও ডাচেস অব সাসেক্স মেগান মার্কলের বাবা থমাস মার্কল সিনিয়রকে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। 
মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের পর এবার গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার মেগানের বাবা
হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন ঝড় ‘পেনা’
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘পেনা’। 
হাওয়াইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন ঝড় ‘পেনা’
আরও পড়ুন
ইরানের কেশম দ্বীপে ফের হামলা, আলোচনায় অগ্রগতির দাবি ট্রাম্পের
৭ শর্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের পারমাণবিক প্রস্তাব
বৈঠকে পুতিনের হাতে খামেনির গোপন চিঠি তুলে দিলেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান
হরমুজ প্রণালিতে ভারত-চীনসহ ৪ দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান