ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু কোরবানি ও পশুবলি নিয়ন্ত্রণে সরকারি নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে ধর্মীয় অধিকার, আইন ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা।
নওদা এলাকার বিধায়ক হুমায়ুন কবির প্রকাশ্যে কোরবানির ওপর বিধিনিষেধের বিরোধিতা করে বলেন, কোরবানি মুসলিম সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম গরুর মাংস ভক্ষণ করেন এবং কোরবানি বন্ধ করতে হলে কসাইখানাও বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে ধর্মীয় আচার বন্ধ করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবীরের বক্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান বিজেপি নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, ভারতে বসবাস করতে হলে দেশের আইন ও সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে। নিয়ম মানতে আপত্তি থাকলে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আদালতের নির্দেশনার আলোকে প্রকাশ্যে পশুবলি ও কোরবানি নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই, প্রকাশ্যে রক্তপাত এবং গবাদিপশু জবাইয়ের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়।
রাজ্য সরকারের দাবি, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের অভিযোগ, এই নির্দেশনা ধর্মীয় অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল।
আগামী ২৭ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বিরোধীদের অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্য ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ বাড়াতে পারে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইন সবার জন্য সমান এবং কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আরটিভি/এসকে



