২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ২৯ লাখ পাউন্ড কর পরিশোধ করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। তিনিই প্রথম ব্রিটিশ রাজা যিনি নিজের কর পরিশোধের তথ্য এভাবে প্রকাশ্যে আনলেন। এই বিপুল পরিমাণ কর পরিশোধের ফলে রাজা চার্লস এখন যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ ১০০ করদাতার একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। খবর বিবিসির।
বার্ষিক রাজকীয় আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়াম ৭৭ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ড আয়কর ও মূলধনী মুনাফা কর পরিশোধ করেছেন। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রাজা চার্লস ১ কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড এবং প্রিন্স উইলিয়াম ৮৩ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড কর পরিশোধ করেছিলেন। ২০২২ সালে রাজা চার্লস সিংহাসনে বসার পর থেকে তিনি এবং প্রিন্স উইলিয়াম মিলিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজস্ব বিভাগে ৫ কোটি পাউন্ডের বেশি কর পরিশোধ করেছেন।
রাজা চার্লস ও প্রিন্স উইলিয়ামের কার্যালয় জানিয়েছে, নিজেদের কর পরিশোধের তথ্য প্রকাশ করা সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল। বাকিংহাম প্যালেসের ভাষ্য, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজপরিবারের আর্থিক জবাবদিহি সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে আরও স্বচ্ছতা ও সচেতনতা তৈরি করা। রাজা চার্লস প্রতি বছর মূলত ডাচি অব ল্যাঙ্কাস্টার এস্টেট থেকে ব্যক্তিগত আয় পান। এই এস্টেটের আয় রাজাধিরাজের সরকারি ও ব্যক্তিগত ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যবহৃত হয়।
তবে নতুন প্রকাশিত তথ্যে করের মোট পরিমাণ জানানো হলেও কীভাবে এই করের হিসাব নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। করনীতি বিশেষজ্ঞ এবং ট্যাক্স পলিসি অ্যাসোসিয়েটস-এর প্রতিষ্ঠাতা ড্যান নেডল বলেন, এই তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত অস্পষ্ট। তার মতে, এতে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না কত টাকা আয়কর, কতটা মূলধনী মুনাফা কর কিংবা কর নির্ধারণের আগে কী কী ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরও বাকিংহাম প্যালেসে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে উঠবেন না। তারা আগের মতোই ক্লারেন্স হাউসেই থাকবেন। এ ছাড়া রাজপরিবারের প্রধান সরকারি অর্থায়ন সোভরেন গ্রান্ট ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রায় ১০ কোটি পাউন্ডে উন্নীত হবে বলেও রাজকীয় এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরটিভি/এআর




