জার্মানির আলগাউ অঞ্চলের একটি নির্জন পার্বত্য তৃণভূমিতে প্রায় ১১০০ বছর বয়সী একটি ইউ গাছের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষকদের মতে, এটিই বর্তমানে জার্মানির সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত বৃক্ষ।
জার্মান ডেনড্রোলজিক্যাল সোসাইটির বৃক্ষবিজ্ঞানীরা জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১১০০ মিটার উচ্চতায় উত্তর-পশ্চিমমুখী একটি পাহাড়ি ঢালে দাঁড়িয়ে আছে গাছটি। গাছটির গুঁড়ির পরিধি প্রায় ৫ দশমিক ১ মিটার। দীর্ঘ এক সহস্রাব্দ ধরে প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক বৈরিতা মোকাবিলা করে এটি টিকে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পাখির মাধ্যমে ইউ গাছের বীজ ওই এলাকায় পৌঁছে অঙ্কুরোদ্গম ঘটেছিল। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশাল আকার ধারণ করে। ইউরোপে ইউ গাছের ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনেক। ইতালির আল্পস পর্বতমালায় আবিষ্কৃত প্রায় পাঁচ হাজার বছর পুরোনো ‘আইসম্যান’-এর শিকারের ধনুকও ইউ গাছের কাঠ দিয়ে তৈরি হয়েছিল।
এতদিন জার্মানির নিম্ন স্যাক্সনির উপস্টেট গ্রামে অবস্থিত প্রায় এক হাজার বছর পুরোনো একটি লাইম (চুন) গাছকে দেশটির সবচেয়ে প্রাচীন জীবিত বৃক্ষ হিসেবে ধরা হতো। তবে নতুন এই আবিষ্কারের পর সেই স্থান দখল করেছে আলগাউয়ের ইউ গাছটি।
প্রাচীনত্বের তালিকায় এর পরেই রয়েছে ওয়েস্টফালিয়ার রায়েসফেল্ডে অবস্থিত প্রায় ৯০০ বছর বয়সী ‘এরলে ফেম’ ওক গাছ। মধ্যযুগে এটি ইউরোপের গোপন বিচারিক আদালতের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে জানা যায়।
বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, প্রায় ১৫ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে ইউ গাছের আবির্ভাব ঘটে। ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন দেশীয় উদ্ভিদ প্রজাতি হিসেবে পরিচিত এই গাছ চরম শীত, তুষারপাত ও দীর্ঘ সময় সূর্যালোকের অভাব সত্ত্বেও পাহাড়চূড়ায় টিকে রয়েছে, যা গবেষকদের কাছে এক অনন্য প্রাকৃতিক বিস্ময়।
ড্রেসডেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক আন্দ্রিয়াস রলোফ বলেন, গাছটির কাণ্ডের ফাটল, ফোলা অংশ, খাঁজ ও গর্ত যেন শতাব্দীর ইতিহাস বহন করছে। এটি প্রকৃতির এক জীবন্ত স্মৃতিস্তম্ভ।
সূত্র: ইউরো নিউজ
আরটিভি/এসকে



