খামেনির মরদেহ কেন ইরাকে নেওয়া হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০২:৪২ পিএম


খামেনির মরদেহ কেন ইরাকে নেওয়া হচ্ছে?
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের ঢল। ছবি: এএফপি

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ আগামী ৮ জুলাই ইরাকের কারবালা ও নাজাফে নেওয়া হবে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এবং পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটস বা পিএমইউ-এর সহযোগিতায় বড় পরিসরে বিশেষ শোকানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার মরদেহ আবার ইরানের মাশহাদে ফিরিয়ে আনা হবে দাফনের জন্য।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—একজন ইরানি নেতার শেষ বিদায়ের এত গুরুত্বপূর্ণ অংশ কেন প্রতিবেশী দেশ ইরাকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে?

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বা ধর্মীয় নেতাদের জানাজা ও শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায় জানানোর আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাজনৈতিক বৈধতা, নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা এবং মিত্রদের ঐক্য প্রদর্শনেরও একটি বড় মাধ্যম। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ইরাকে খামেনির শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে ইরান মূলত তার আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থনের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চায়।

আরও পড়ুন

ইরাকের এই গুরুত্বের পেছনে আরেকটি বড় ধর্মীয় কারণও রয়েছে। দেশটির কারবালা ও নাজাফ শহর শিয়া ইসলামের অন্যতম প্রধান পবিত্র কেন্দ্র। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই অঞ্চল শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও নেতৃত্বের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাসে কাজার রাজবংশের কয়েকজন ইরানি শাসকও কারবালায় সমাহিত হয়েছিলেন। ফলে খামেনির স্মরণানুষ্ঠান সেখানে আয়োজনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উত্তরাধিকারকে সামগ্রিক শিয়া ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করার একটি বড় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব নানা ধরনের কৌশলগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সিরিয়ায় তাদের অবস্থান কিছুটা দুর্বল হয়েছে, লেবাননে চাপ বেড়েছে এবং ইরাকে পিএমইউকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার নতুন উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। এমন এক জটিল প্রেক্ষাপটে ইরাকে এই বড় পরিসরের শোকানুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চায় যে তাদের আঞ্চলিক মিত্ররা এখনো পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ। একই সঙ্গে এই সম্পর্ক যে শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তিতেও অত্যন্ত দৃঢ়—সেই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, খামেনির জানাজা ও শেষ বিদায়ের এই আনুষ্ঠানিকতা তার মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরই মধ্যে বিশ্ব রাজনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে; ইরান আবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একধরনের আলোচনা শুরু করেছে, উপসাগরীয় দেশগুলো আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে এবং ইরাকও নিজেকে সামগ্রিক সংঘাত থেকে দূরে রাখার নীতি অনুসরণ করছে।

তাই বিশ্লেষকদের মতে, এই শোকানুষ্ঠান শুধু একজন প্রয়াত নেতার প্রতি সাধারণ শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের বর্তমান অবস্থান, প্রভাব এবং আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শনেরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission