মাঝ আকাশে তীব্র ঝাঁকুনির (এয়ার টার্বুলেন্স) মুখে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ হুট করেই ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে এয়ারলাইনসটির অন্তত ১৪ জন আরোহী আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, এয়ার ইন্ডিয়ার ‘এআই২৩৭৯’ ফ্লাইটটি ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। উড্ডয়নের শুরুতে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলেও মাঝপথে হঠাৎ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। মেঘ ও বাতাসের তীব্রতার কারণে উড়োজাহাজটি আচমকা প্রবল ঝাঁকুনির মুখে পড়ে এবং মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে আকাশেই প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।
সাধারণত আবহাওয়ার অবনতি ঘটলে পাইলটরা আগে থেকেই সিটবেল্ট বেঁধে রাখার সতর্কবার্তা দিয়ে থাকেন। তবে আবহাওয়া দ্রুত খারাপ হওয়ায় আগাম কোনো বার্তা দেওয়ার সুযোগ মেলেনি বলে জানা গেছে। আচমকা এই ঝাঁকুনিতে সিটবেল্ট না বাঁধা অবস্থায় থাকা কয়েকজন যাত্রী ও কেবিন ক্রু আঘাত পান।
পরবর্তীতে পাইলট দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামলে নিয়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করাতে সক্ষম হন। মাঝআকাশের এই জরুরি পরিস্থিতির কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হয়।
অবতরণের পূর্বেই বিমানের পাইলট দিল্লি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। ফলে জরুরি ভিত্তিতে বিমানবন্দরেই চিকিৎসক ও প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। বিমানটি রানওয়েতে স্পর্শ করার পরপরই আহতদের দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, এক কেবিন ক্রুর আঘাত কিছুটা গুরুতর হলেও চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া বাকি আহত যাত্রীদের আঘাত আশঙ্কাজনক নয়।
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উড্ডয়নকালে অনাকাঙ্ক্ষিত এই টার্বুলেন্সের ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাসমূহকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে এয়ারলাইনসটি।
আরটিভি/এআর




