যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা রক্ষায় মধ্যস্থতাকারীরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ হামলা চালাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইরানের দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করা রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের সব এলাকা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দেওয়ায় নতুন বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রতিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেন, তার বাবা ও সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, নিহতদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আলী খামেনি নিহত হন। সেই হামলায় মোজতবা খামেনিও আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি। সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি।
এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হলেও যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। তবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভঙ্গ করলে দেশকে রক্ষায় পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
উত্তেজনার মধ্যেও কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমানে গেছেন হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে। তবে ইরানের একটি সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থান থেকে না সরে আসা পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক আলোচনা একসঙ্গে চলায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
আরটিভি/জেএমএ



