ভারতের দিল্লিতে চলন্ত স্কুটারে তর্কাতর্কির জেরে স্ত্রীকে রাস্তায় গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম মনিষ ভাটি।
সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরের দিকে পূর্ব দিল্লির কল্যাণপুরী এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্য পলাতক রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভোরে মনিষ ভাটি ও তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা স্কুটারে করে যাচ্ছিলেন। পথেই দুজনের মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে মনিষ স্কুটার থামিয়ে স্ত্রীকে রাস্তায় নামিয়ে দেন এবং দুজনের মধ্যে তুমুল ঝগড়া চলতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝগড়ার একপর্যায়ে মনিষ আচমকা তার কাছে থাকা পিস্তল দিয়ে স্ত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। প্রিয়াঙ্কা রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে মনিষ স্কুটার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যান।
ঘটনার কিছু সময় পর ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ডেলিভারি বয় প্রিয়াঙ্কাকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পূর্ব দিল্লির লাল বাহাদুর শাস্ত্রী (এলবিএস) হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রিয়াঙ্কার মৃত্যু হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মনিষ ভাটি সম্প্রতি পূর্ব দিল্লির অ্যান্টি-অটো থেফট স্কোয়াডে (এএটিএস) কর্মরত ছিলেন। আর নিহত প্রিয়াঙ্কার বয়স ২৬ বছর, তিনি পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। আজই ছিল প্রিয়াঙ্কার জন্মদিন। নিজের জন্মদিনের দিনই স্বামীর হাতে এভাবে প্রাণ হারাতে হলো তাকে।
এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। প্রিয়াঙ্কার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মনিষ ভাটিকে খুঁজে বের করতে এবং তাকে গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করেছে।
আরটিভি/এআর



