ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ুর জন্য বড় হুমকি ফুটবল বিশ্বকাপ: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৩ এএম
বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের জলবায়ুগত নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো জমকালো ‘মেগা ইভেন্ট’ বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য এখন অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনা বা আলোর ঝলকানির চেয়েও এই টুর্নামেন্টে আসা কোটি কোটি দর্শকের যাতায়াতই মূলত সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের প্রধান কারণ।

শনিবার (১৮ জুলাই) ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

মেগা ইভেন্টগুলোর এই জলবায়ুগত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবহারকারী দর্শকদের টিকিটে বিশেষ ছাড় ও নানা প্রণোদনা চালুর জরুরি তাগিদও দিয়েছেন গবেষকেরা।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আনুমানিক ৪২ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কার্বন নির্গমন আইসল্যান্ডের মতো একটি উন্নত দেশের পুরো এক বছরের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সমান।

আরও পড়ুন

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮২ শতাংশই এসেছে দর্শকদের ভেন্যুতে আসা-যাওয়ার পথ থেকে। এর মধ্যে শুধু ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণের কারণেই প্রায় ৩০ লাখ টন কার্বন বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়েছে।

গবেষণার প্রধান লেখক শন লারকম বলেন, বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের জলবায়ুগত নেতিবাচক প্রভাব কমাতে শুধু স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবহার বা পরিচালনাগত নির্গমন কমানোই যথেষ্ট নয়। এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দর্শকদের দূর-দূরান্তের যাতায়াত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এই গবেষণায় ফুটবল বিশ্বকাপের পরিবেশগত ধ্বংসের পাশাপাশি ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লের ২০২৪ সালের ইউরোপ সফরের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে, যাদের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৯৭ শতাংশই এসেছিল দর্শকদের যাতায়াত থেকে।

গবেষকেরা মনে করেন, পরিবেশের ক্ষতি করার পর শুধু ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন বা কার্বন অফসেট প্রকল্পের ওপর নির্ভর করলে তা জলবায়ু সুরক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে না। বরং ফিফাসহ বড় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে শুরু থেকেই কার্বন নিঃসরণ সরাসরি কমানোর কার্যকর বাস্তবমুখী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য মেগা ইভেন্টগুলোর জলবায়ুগত হুমকি রুখতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।

সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকারীদের জন্য মূল টিকিটে সরাসরি ছাড়ের ব্যবস্থা করা, দূরপাল্লার রেল ভ্রমণে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া, ভেন্যুতে আসার জন্য গণপরিবহন ও শেয়ার করা যানবাহন ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য এমন সব দেশ বা ভেন্যু যৌথভাবে নির্বাচন করা, যেখানে আন্তর্জাতিক দর্শকদের দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হবে।

গবেষকদের মতে, বড় ক্রীড়া আয়োজকদের শুধু সুন্দরভাবে খেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিলেই চলবে না, ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে সৃষ্ট পরোক্ষ কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে জলবায়ুর যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, তার দায়ও সমানভাবে নিতে হবে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপকতাকে হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের জোরালো প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ৫ কারণে ভরাডুবি হলো রিপাবলিকানদের
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম)। শনিবার (৭ নভেম্বর) পর্যন্ত এই আবহাওয়া পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। খবর গালফ নিউজের মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এনসিএম জানায়, দেশটির বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে ভারী বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, ধূলিঝড় এবং নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, জাজান, আসির, আল বাহা ও মক্কা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া মদিনা, তাবুক, আল জউফ, নর্দার্ন বর্ডার, হাইল ও নাজরান অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। মক্কা নগরী ছাড়াও তায়েফ, আল জুমুম, বাহরা, মাইসান, আদহাম ও আল আরদিয়াত এলাকায় শনিবার পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, জেদ্দা, রাবিগ ও খুলাইস এলাকায় মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্যন্ত হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। এনসিএম আরও জানিয়েছে, ঝড়ের সময় ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এতে সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও টর্নেডো ও জলস্তম্ভ তৈরির আশঙ্কাও রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আবহাওয়া কেন্দ্রের হালনাগাদ পূর্বাভাস ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সূত্র: গালফ নিউজ আরটিভি/এসকে
সৌদিজুড়ে সতর্কতা জারি
বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়বেন কাতারের আমির
কাতারে বৃষ্টির জন্য বিশেষ নামাজ ‘সালাতুল ইস্তিসকা’ আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।
বৃষ্টির জন্য নামাজ পড়বেন কাতারের আমির
থানার ভেতরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানার সব পুলিশ বরখাস্ত
ভারতের ঝাড়খণ্ডে থানার ভেতরে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কর্মরত ১৫ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
থানার ভেতরে নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, থানার সব পুলিশ বরখাস্ত
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ, বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে এক বাংলাদেশি প্রবাসীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন কুয়েতের একটি ফৌজদারি আদালত।
স্ত্রীর ছবি ফেসবুকে প্রকাশ, বন্ধুকে হত্যার দায়ে কুয়েতে বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড
আরও পড়ুন
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটে ইন্টার্নশিপের সুযোগ, মাসে ভাতা ১০০০০
মাঠে আঘাতের পর হাসপাতালে ফুটবলারের মৃত্যু
কৃষিতে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে ‘বিনা’র বিপ্লব
মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে গবেষণার বিকল্প নেই: প্রাণিসম্পদ সচিব