বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো জমকালো ‘মেগা ইভেন্ট’ বৈশ্বিক জলবায়ুর জন্য এখন অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনা বা আলোর ঝলকানির চেয়েও এই টুর্নামেন্টে আসা কোটি কোটি দর্শকের যাতায়াতই মূলত সবচেয়ে বেশি কার্বন নিঃসরণের প্রধান কারণ।
শনিবার (১৮ জুলাই) ইউরো নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
মেগা ইভেন্টগুলোর এই জলবায়ুগত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবহারকারী দর্শকদের টিকিটে বিশেষ ছাড় ও নানা প্রণোদনা চালুর জরুরি তাগিদও দিয়েছেন গবেষকেরা।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ৪৮টি দল নিয়ে আয়োজিত ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে আনুমানিক ৪২ লাখ ৩০ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কার্বন নির্গমন আইসল্যান্ডের মতো একটি উন্নত দেশের পুরো এক বছরের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের সমান।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বকাপের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৮২ শতাংশই এসেছে দর্শকদের ভেন্যুতে আসা-যাওয়ার পথ থেকে। এর মধ্যে শুধু ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণের কারণেই প্রায় ৩০ লাখ টন কার্বন বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়েছে।
গবেষণার প্রধান লেখক শন লারকম বলেন, বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের জলবায়ুগত নেতিবাচক প্রভাব কমাতে শুধু স্টেডিয়ামের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবহার বা পরিচালনাগত নির্গমন কমানোই যথেষ্ট নয়। এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দর্শকদের দূর-দূরান্তের যাতায়াত থেকে সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করা। এই গবেষণায় ফুটবল বিশ্বকাপের পরিবেশগত ধ্বংসের পাশাপাশি ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লের ২০২৪ সালের ইউরোপ সফরের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে, যাদের মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ৯৭ শতাংশই এসেছিল দর্শকদের যাতায়াত থেকে।
গবেষকেরা মনে করেন, পরিবেশের ক্ষতি করার পর শুধু ক্ষতিপূরণমূলক বনায়ন বা কার্বন অফসেট প্রকল্পের ওপর নির্ভর করলে তা জলবায়ু সুরক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা রাখবে না। বরং ফিফাসহ বড় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে শুরু থেকেই কার্বন নিঃসরণ সরাসরি কমানোর কার্যকর বাস্তবমুখী ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য মেগা ইভেন্টগুলোর জলবায়ুগত হুমকি রুখতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছেন জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা।
সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকারীদের জন্য মূল টিকিটে সরাসরি ছাড়ের ব্যবস্থা করা, দূরপাল্লার রেল ভ্রমণে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া, ভেন্যুতে আসার জন্য গণপরিবহন ও শেয়ার করা যানবাহন ব্যবহারে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য এমন সব দেশ বা ভেন্যু যৌথভাবে নির্বাচন করা, যেখানে আন্তর্জাতিক দর্শকদের দীর্ঘ দূরত্বের বিমান ভ্রমণের প্রয়োজন তুলনামূলক কম হবে।
গবেষকদের মতে, বড় ক্রীড়া আয়োজকদের শুধু সুন্দরভাবে খেলা পরিচালনার দায়িত্ব নিলেই চলবে না, ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে সৃষ্ট পরোক্ষ কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে জলবায়ুর যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, তার দায়ও সমানভাবে নিতে হবে।
আরটিভি/এআর




