গালাগাল দেওয়া ‘অশ্লীলতা’ নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক,  আরটিভি নিউজ

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২০ পিএম


গালাগাল দেওয়া ‘অশ্লীলতা’ নয়: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানিয়েছে যে কেবল গালিগালাজ, অভদ্র আচরণ বা কোনো ধরনের কটু কথা যতই আপত্তিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীনে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না। 

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, কেবল মুখে গালিগালাজ বা অশোভন ভাষা ব্যবহার করলেই তা দণ্ডবিধির ২৯৪ ধারার আওতায় কোনো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণটি দিয়েছে। নিম্ন আদালতের দেওয়া দণ্ডাদেশ বহাল রেখে মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তির দায়ের করা আপিল শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই রায় দেয়। 

রায়ে আদালত উল্লেখ করে, কোনো বক্তব্য বা উচ্চারণকে তখনই কেবল ‘অশ্লীল’ হিসেবে গণ্য করা যাবে, যখন প্রমাণ হবে যে সেটি ছিল অতিরিক্ত কামোদ্দীপক, যা মানুষের মনে বিকৃত ও কলুষিত চিন্তার উদ্রেক করে এবং সমাজে নৈতিক অবক্ষয় ডেকে আনে।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ শুক্রবার তাদের রায়ে স্পষ্ট করে জানায়, আইনের এই মানদণ্ডে বিচার করলে, অভিযোগকারী যে সমস্ত অভিযোগ এনেছেন তা যদি পুরোপুরি সত্য বলেও ধরে নেওয়া হয়, তবুও অভিযুক্তের মুখের কথাগুলোকে কোনোভাবেই অশ্লীল বলা যায় না। এই ধরনের শব্দগুলো যতই গালিগালাজপূর্ণ, অপ্রীতিকর বা অসভ্য হোক না কেন, তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারার শর্ত পূরণ করে না। 

আরও পড়ুন

তাছাড়া, আইপিসির এই ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হতে হলে জনসমক্ষে সেই শব্দের কারণে অন্য কেউ বিরক্ত বা উত্যক্ত হয়েছেন—এমন প্রমাণ থাকতে হয়, যা এই মামলায় অনুপস্থিত ছিল। ফলে আদালত জানায় যে, আইপিসির ২৯৪(বি) ধারার অধীনে এই অপরাধটি এখানে গঠিতই হয়নি।

আলোচ্য মামলাটি ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে ভারতের তামিলনাড়ুতে একটি কৃষি জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। জমি নিয়ে মামলাকারীর সঙ্গে তার দুলাভাইয়ের ঝগড়া হয় এবং এর দুদিন পর একই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নের সাথেও তার নতুন করে বিরোধ বাধে। প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, ওই সময় অভিযোগকারী মধ্যস্থতা করতে এলে মামলাকারী তাকে নানা কটু কথা, গালিগালাজ এবং জাতিগত বৈষম্যমূলক স্লোগান দিয়ে আক্রমণ করেন।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত মামলাকারীকে দণ্ডবিধির ২৯৪(বি) ধারায় অশ্লীলতা, ৩২৬ ধারায় গুরুতর আঘাত এবং ৫০৬(২) ধারায় অপরাধমূলক হুমকির পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছিল। পরবর্তীতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট মামলাকারীকে তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনের অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) অধীন অন্যান্য ধারাগুলোর সাজা বহাল রেখেছিল, যা অবশেষে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সংশোধন করে দিল।

সূত্র: এনডিটিভি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission