নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৫৩ পিএম


নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হতে পারেন নেতানিয়াহু
জোহরান মামদানি ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু : ছবি সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (UNGA) চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শুরু হবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া সম্ভব কি না, তা নিয়ে আইনি পর্যালোচনা করছে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকাটির The Interview পডকাস্টে মামদানি বলেন, আমার বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর স্থান হেগে (আইসিসি)। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) অভিযুক্ত একজন যুদ্ধাপরাধী। গত কয়েক বছরে তার কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই একই মত পোষণ করেন।

তবে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য নেতানিয়াহুর সফর পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ড্যানি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসবেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন এবং বিশ্বের সামনে ইসরায়েলের অবস্থান ও আত্মরক্ষার অধিকার তুলে ধরবেন।

আরও পড়ুন

এদিকে, টাইমসের সাক্ষাৎকারে মামদানি জানান, এ বিষয়ে তিনি নিউইয়র্ক সিটির আইন বিভাগ (Law Department)-এর সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছেন। তবে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে (NYPD) নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার মতো আইনি ক্ষমতা তার রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

তার ভাষায়, আইন আমাকে যতটুকু ক্ষমতা দেয়, আমরা ততটুকুই করব। তবে, এ উদ্দেশ্যে আমরা নিজেরা নতুন কোনো আইন তৈরি করব না।

সম্প্রতি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে মামদানির বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, মামদানির এ ধরনের হুমকি নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।

তিনি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করেন এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পরও সেই অবস্থান বজায় রেখেছেন।

নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ইসরায়েলকে নিন্দা করেন, অথচ ইসরায়েলই একমাত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যা আমেরিকার মূল্যবোধের পাশে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও দাবি করেন, যে ইসরায়েলকে ঘৃণা করে, সে আমেরিয়াকেও ঘৃণা করে।

নিউইয়র্কে ইসরায়েলের কনসাল জেনারেল ওফির আকুনিস বলেন, নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের আহ্বান জানানোর কোনো আইনি ক্ষমতা মামদানির নেই। তিনি বলেন, যে বিষয়টি তার এখতিয়ারের বাইরে, সেটি নিয়ে কথা না বলে নিউইয়র্ক শহর পরিচালনায় মনোযোগ দেওয়াই তার উচিত।

আরও পড়ুন

মেয়র নির্বাচনি প্রচারণার সময়ও মামদানি বলেছিলেন, আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় তিনি নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেবেন। সে সময় তিনি গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যা’ সংঘটিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছিলেন।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)-কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রভাব কমাতে একটি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা এমন তথ্য জানিয়েছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির থাকা উচিত নয়।

চলতি বছর রয়টার্স প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য ভবিষ্যতে ট্রাম্প বা তার কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার সম্ভাবনা ঠেকাতেই আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকে সমর্থন করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission