ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে জীবনবিমার ২০ লাখ রুপির পেতে স্বামীকে বিষধর সাপ দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তার পরকীয়া প্রেমিকের বিরুদ্ধে। পুলিশের দাবি, স্বামীকে হত্যার পর ঘটনাটিকে সাপের কামড়ে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন তারা। এ ঘটনায় ওই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দামিনী পাওয়ার (৩০), তার প্রেমিক তুষার কুমার (৩৪) এবং দুই সাপুড়ে সোনু কুমার ও উদয় কুমার। শনিবার মিরাটের হস্তিনাপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের অভিযোগ, দামিনী ও তুষার মিলে দামিনীর স্বামী অতুল পাওয়ারকে (৩২) হত্যার পরিকল্পনা করেন। অতুল ও দামিনী ২০১৯ সালে বিয়ে করেছিলেন। তাদের ছয় বছরের একটি সন্তান রয়েছে। তিন মাস আগে তারা একটি প্লে-স্কুল চালু করেন। পরে ওই স্কুলের ভ্যানচালক হিসেবে তুষারকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর দামিনী ও তুষারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে তদন্তে জানতে পারে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, অতুলকে হত্যার পরিকল্পনা বেশ কিছুদিন ধরেই করছিলেন দামিনী ও তুষার। বৃহস্পতিবার রাতে অতুলকে ঘুমের ওষুধ মেশানো দুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর তার বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে অতুলের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের দাবি।
শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে দামিনী ঘরে ফিরে অতুলকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান বলে তদন্তকারীদের জানান। পরে বিছানায় একটি সাপ দেখে তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকেন। অতুলকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাড়ির ভেতর পাওয়া সাপটিকে পরে স্থানীয় লোকজন মেরে ফেলেন।
তবে অতুলের পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। তাদের প্রশ্ন ছিল, ঘরের ভেতর বিছানায় সাপ কীভাবে এল। পরে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, স্কুলের ভ্যানচালক তুষারের সঙ্গে দামিনীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
তুষারের মুঠোফোন তল্লাশি করে একটি বাক্সে রাখা সাপের ছবিও পাওয়া যায়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে দামিনী ও তুষার হত্যার পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
মিরাটের এসএসপি অবিনাশ পাণ্ডে বলেন, দামিনীর কথায় তুষার দুই সাপুড়ের কাছ থেকে বিষধর সাপটি কিনেছিলেন। পরে সেই সাপ দামিনীকে দেওয়া হয়। জীবনবিমার ২০ লাখ রুপি পাওয়ার জন্যই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, তুষার তার স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দামিনীকে বিয়ে করার পরিকল্পনাও করেছিলেন।
এ ঘটনায় দামিনী ও তুষারের পাশাপাশি সাপ সরবরাহের অভিযোগে সোনু কুমার ও উদয় কুমারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) ধারায় হত্যা এবং ১২৩ ধারায় বিষ, নেশাজাতীয় বা অচেতনকারী পদার্থসহ অনুরূপ উপায়ে আঘাত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া
আরটিভি/ এসকেডি




