ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকারের দাবি তুলেছে।
তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা কোনোভাবেই ‘গণতান্ত্রিক’ নয় এবং এটি ভারতের সংস্কৃতিও নয়। সরকার যেভাবে এই আন্দোলন দমন করেছে, তার কড়া সমালোচনা করেছেন তিনি ।
সরকারি চাকরির প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রযুক্তিগত ত্রুটিসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ ভবন অভিমুখে পদযাত্রা করার চেষ্টা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। ওই সময় দিল্লি পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে।
এক ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীরা যা করছে, তাতে একেবারেই কোনো ভুল নেই। আর সরকার ও পুলিশ যা করছে তা অত্যন্ত ঘৃণ্য। এটি আচরণ করার কোনো ধরণ হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারগ্যাস মারা, লাঠিচার্জ করা গণতান্ত্রিক নয়, এটি ভারতের পথ নয় এবং এটি করা উচিত নয়।
ভিডিও বার্তার পাশাপাশি দেশটির বিরোধীদলীয় এই নেতা পুলিশের দমনপীড়ন এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ভিডিও পোস্ট করেন। দেশের অধিকাংশ মানুষই তরুণ উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, দিল্লির রাজপথে যেসব ছেলেমেয়ে নেমেছে তারা কোনো অপরাধী নয়, তারা নিজেদের অধিকার দাবি করছে। একটি সম্মানজনক, ন্যায্য এবং কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা পাওয়া তাদের অধিকার।
তরুণদের সমর্থনে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের অংশ হিসেবে টানা ২১ দিন অনশন করার পর গত শনিবার দেশটির মানবাধিকার কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোরপূর্বক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরপরই ওই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে।
গত মে মাসে যাত্রা শুরু করার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী তৈরি হয়েছে সিজেপির। ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থা ও বেকারত্ব নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ ঘিরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে দেশটিতে ব্যাঙ্গাত্মক এক মন্তব্যের জেরে তৈরি হওয়া ককরোচ জনতা পার্টি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি প্রশ্ন করেছে, ‘‘এটি কি কোনো যুদ্ধক্ষেত্র? পুলিশ কেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস হামলা চালাচ্ছে?’’
দিল্লির পুলিশ বলেছে, বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নয়াদিল্লির কিছু অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাহুল গান্ধী বলেন, তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, প্রধানমন্ত্রীর এসব দাবি মেনে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যেভাবে চলছে তা নিয়ে সবাই চরম বিরক্ত। আরএসএস যেভাবে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা দখল করে নিয়েছে এবং একটিমাত্র সংস্থা যেভাবে আমাদের সমস্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে, তাতে সবাই অতিষ্ঠ। তরুণরা যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে তা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং তাদের এই প্রতিবাদকে শ্রদ্ধা করা উচিত।
সকালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগের পর সিজেপি বলেছে, তাদের দুই নেতা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং নিজেদের দাবি সম্বলিত একটি চিঠি জমা দিয়েছেন।
মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এই বৈঠকের কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে আলোচনার প্রস্তাব আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকেই এসেছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এক্সে দেওয়া পোস্টে নাড্ডা লেখেন, ‘‘আজ সকালে প্রথমবারের মতো আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব আসে এবং দুপুর ১১টা ৫০ মিনিট থেকে আমাদের আলোচনা চলছে। বৈঠকটি খুব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রথমে বিস্তারিত মৌখিক আলোচনা হয় এবং বিকেল ৪টার দিকে তারা আমার কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দেয়। আমি সকল আন্দোলনকারীকে তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছি।’’
আরটিভি/ এসকেডি




