তেহরানে নেই খামেনি, সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৫:৫১ পিএম


তেহরানে নেই খামেনি, সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা জানা গেল
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ফাইল ছবি

ইরানের ওপর একযোগে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। হামলায় বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কার্যালয় ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বাসভবনকে। 

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানসহ ইরানের পাঁচটি প্রধান শহরে যৌথভাবে ভয়ংকর এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। 

এই হামলার সঙ্গে সঙ্গেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক ভিডিও বার্তায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ চালিয়েছে। আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।

বিজ্ঞাপন

এরপরই আবার ফ্লোরিডা থেকে এক ভিডিও ভাষণে ইরানি জনগণের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাজ শেষ হলে, তোমাদের সরকার উৎখাত করো। এটা তোমাদেরই দখল করতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটাই সম্ভবত তোমাদের একমাত্র সুযোগ হবে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ইরানে মন্ত্রী ও সামরিক প্রধানদের বাসভবন, প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের স্থাপনা এবং প্রেসিডেন্টের ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আর বিবিসি আরবি বিভাগ জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের কাছেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসনা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, খামেনির সদরদপ্তর ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদ যেখানে তার আশেপাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থা নিয়ে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে, ইরানি এক কর্মকর্তার বরাতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তেহরানে নেই; তাকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও সুস্থ রয়েছেন এবং কোনো সমস্যা নেই বলে নিশ্চিত করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি ও ইসনা নিউজ এজেন্সি।

বিজ্ঞাপন

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ব্যাপকভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে, নিরাপত্তা চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং সাধারণত জনবহুল এমন এলাকায় সড়কগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর চুপ করে বসে নেই ইরান। তাৎক্ষণিকভাবে জবাব দেওয়া শুরু করেছে তারাও। ইসরায়েলে বৃষ্টির মতো আঘাত হানছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। শুধু ইসরায়েলেই নয়; যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও হামলা শুরু করেছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।  

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পাল্টা হামলার পর পুরো ইসরায়েলজুড়ে বিপদ সংকেত বা সাইরেন বেজে উঠেছে এবং নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইডিএফের পক্ষ থেকে জারি করা জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ধরনের ঢেউ আমাদের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং বিমান বাহিনী এই হুমকিগুলো প্রতিহত করার জন্য সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছে। 

আইডিএফ আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয়, তাই বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে অবিলম্বে আইডিএফের সুরক্ষা নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। তেল আবিবসহ ইসরায়েলের প্রধান শহরগুলোতে এখন মুহুর্মুহু সাইরেন আর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, যা দেশটিকে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission