ইরানের তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত ও এশিয়ার অন্যসব দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬ , ০৫:২৮ পিএম


ইরানের তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত ও এশিয়ার অন্যসব দেশ
ছবি: সংগৃহীত

২২ দিন ধরে চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক বাজারে সৃষ্ট সংকটের মুখে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সুযোগ লুফে নিয়ে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত ও এশিয়ার অন্যসব দেশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

ভারতের তিনটি রিফাইনারি (তেল শোধনাগার) সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রয়টার্স বলছে, এশিয়ার অন্য বড় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুত কম থাকায় দেশটি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এশিয়ার অন্য রিফাইনারিগুলোও ইরানি তেল কেনার আইনি ও কারিগরি দিক যাচাই করে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার (২০ মার্চ) জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) জানিয়েছে, ২০ মার্চ বা এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন ইরানি তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এ সুবিধার আওতায় পড়বে। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন (১৭ কোটি) ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে।

অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩–১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।

এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জেরে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীন দেশটির প্রধান গ্রাহক হয়ে ওঠে।

কেপলারের তথ্যমতে, গত বছর চীনের শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিকাংশ দেশ ইরানি তেল কেনা বন্ধ রাখলেও বড় ছাড়ে এ তেল কিনে আসছিল চীন।

অবশ্য, তেল কেনার সুযোগ তৈরি হলেও অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং এ তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে থাকায় কিছু জটিলতা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া অতীতে যারা সরাসরি ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) কাছ থেকে তেল কিনতো, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, ২০১৮ সালের পর থেকে ইরানি তেলের একটি বড় অংশই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে আসছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে, তবে সবাই দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা করবে।’

২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission