ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত ও এশিয়ার অন্যসব দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

২২ দিন ধরে চলমান সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক বাজারে সৃষ্ট সংকটের মুখে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সুযোগ লুফে নিয়ে ইরানের কাছ থেকে তেল কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত ও এশিয়ার অন্যসব দেশ।

শনিবার (২১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে রয়টার্স।

ভারতের তিনটি রিফাইনারি (তেল শোধনাগার) সূত্র জানিয়েছে, তারা ইরানি তেল কিনতে প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও পেমেন্ট পদ্ধতির মতো বিষয় নিয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে স্পষ্ট বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে।

রয়টার্স বলছে, এশিয়ার অন্য বড় আমদানিকারকদের তুলনায় ভারতের তেলের মজুত কম থাকায় দেশটি এই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এশিয়ার অন্য রিফাইনারিগুলোও ইরানি তেল কেনার আইনি ও কারিগরি দিক যাচাই করে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট শুক্রবার (২০ মার্চ) জানান, ট্রাম্প প্রশাসন সমুদ্রে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে।

মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) জানিয়েছে, ২০ মার্চ বা এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছে, এমন ইরানি তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এ সুবিধার আওতায় পড়বে। ইরান–ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র।

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন (১৭ কোটি) ব্যারেল ইরানি তেল রয়েছে।

অন্যদিকে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস ১৯ মার্চ এই তেলের পরিমাণ ১৩–১৪ কোটি ব্যারেল বলে প্রাক্কলন করেছিল।

এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির জেরে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর চীন দেশটির প্রধান গ্রাহক হয়ে ওঠে।

কেপলারের তথ্যমতে, গত বছর চীনের শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল ইরানি তেল কিনেছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে অধিকাংশ দেশ ইরানি তেল কেনা বন্ধ রাখলেও বড় ছাড়ে এ তেল কিনে আসছিল চীন।

অবশ্য, তেল কেনার সুযোগ তৈরি হলেও অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি এবং এ তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে থাকায় কিছু জটিলতা থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া অতীতে যারা সরাসরি ন্যাশনাল ইরানি অয়েল কোম্পানির (এনআইওসি) কাছ থেকে তেল কিনতো, তাদের ক্ষেত্রে চুক্তির কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে, ২০১৮ সালের পর থেকে ইরানি তেলের একটি বড় অংশই তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে আসছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘ব্যাংকিং ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে, তবে সবাই দ্রুত কাজ শুরু করার চেষ্টা করবে।’

২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা পুনরায় আরোপের আগে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক ছিল ইরানি তেলের প্রধান আমদানিকারক।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা
সৌদি আরব থেকে ৩৮০ লিটার জমজমের পানি পাচারের চেষ্টার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৩ হাজার ৮০০ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছে। গাড়ির বুটের ভেতরে লুকিয়ে এসব পানি দেশের বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
সৌদি আরব থেকে জমজমের পানি পাচারের চেষ্টা
নতুন করে হামলার পরও ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আশাবাদী ভ্যান্স
ইরানের কেশম দ্বীপে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন করে হামলার পরও ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় আশাবাদী ভ্যান্স
নতুন করে ইরানে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের কেশম দ্বীপসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 
নতুন করে ইরানে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
আবারও সৌদিতে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধাদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংসের দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
আবারও সৌদিতে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবে হঠাৎ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি, ঘটনা কী
সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘন কুয়াশা এবং মাঝারি থেকে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এ আশঙ্কায় দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম)। রোববার (১ নভেম্বর) এক সতর্কবার্তায় এনসিএম জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিছু অংশে দুটি রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলের অন্যান্য অংশে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। আবহাওয়ার ক্ষেত্রে রেড অ্যালাটের মানে হল গুরুতর আবহাওয়াজনিত বিপদের সতর্কতা, আর অরেঞ্জ অ্যালার্ট মানে সম্ভাব্য বিপজ্জনক আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নর্দান বর্ডার, হাইল, মক্কা, আসির, আল-বাহা ও জাজান অঞ্চলের কিছু অংশে মাঝারি বৃষ্টিপাতের জন্য ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, জাজান, আসির, আল-বাহা, মক্কা, মদিনা, হাইল এবং নর্দার্ন বর্ডারস অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি থেকে ভারী বজ্রঝড় হতে পারে। একইসঙ্গে শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এর ফলে আকস্মিক বন্যা হতে পারে। এসব অঞ্চলের পাশাপাশি রিয়াদ ও আল-কাসিমের কিছু এলাকায় ধুলো ও বালুঝড় সৃষ্টিকারী প্রবল বায়ু ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে। আরটিভি/এসআর
সৌদি আরবে হঠাৎ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি, ঘটনা কী
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলনের দিকে কড়া নজর রাখছে ভারত: জয়সওয়াল
বিএসএফ সদস্যদের রাস্তায় ফেলে বেধড়ক পেটাচ্ছে গ্রামবাসী, ভিডিও ভাইরাল
নিরাপত্তা শঙ্কায় পিছিয়ে গেল এশিয়ান কাপ
জামালপুরে দুই লাখ টাকার ভারতীয় মদ জব্দ