হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্বের প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৪৮ এএম


হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্বের প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে এই জলপথটি খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, এই ঘোষণাটি আপাতত আগামী দশ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে, যা ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ পর্যন্ত বজায় থাকবে। তবে এই ঘোষণার বিপরীতে ভিন্ন বার্তা পাওয়া গেছে ইরানি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কেবল বেসামরিক জাহাজগুলো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে এই পথ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। এর বাইরে ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা এখনো পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি এখন বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। তিনি আরও জানিয়েছিলেন, ইরানের মূল ভূখণ্ডের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধ আগের মতোই কার্যকর থাকবে। তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে এই অবরোধ শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। তার মতে, যুদ্ধ শেষের চুক্তি এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র এবং দ্রুতই একটি চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

এদিকে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্যারিসে প্রায় ৪০টি দেশের অংশগ্রহণে একটি জরুরি শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সম্মেলনে দেশগুলো একমত হয়েছে যে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ হলে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে তারা যৌথ ভূমিকা রাখবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণাটি কেবল কথার কথায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং একে স্থায়ী এবং কার্যকর হতে হবে।

সম্মেলনে ম্যাক্রোঁ বলেন, হরমুজ প্রণালি কোনো দেশ বা শক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। কোনো ধরণের টোল বা ফি আদায়কে তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ জানিয়েছেন, জার্মানি মাইন অপসারণ এবং গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে এই আন্তর্জাতিক মিশনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য পার্লামেন্টের সমর্থন ও আইনি ভিত্তি প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প অবশ্য ন্যাটো বা অন্য কোনো দেশের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন।

তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কোম্পানিগুলো এখনো বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ডেনমার্কের মার্সক, নরওয়েজিয়ান শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং হ্যাপাগ-লয়েড জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দিলেও মাইন বা অন্যান্য নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা দ্রুত জাহাজ পাঠানোর ব্যাপারে আগ্রহী নয়। তাদের কাছে ক্রু ও জাহাজের নিরাপত্তা সবার আগে। এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই পদক্ষেপকে একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করে স্বাগত জানিয়েছেন।

এদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে আস্থার পরিবেশ তৈরি করেছে এবং দীর্ঘদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

আরটিভি/এআর  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission