জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে

১২ রাশির জাতক-জাতিকার রাশিগত রোগ ও তার কারণ

জ্যোতিষ শাস্ত্রী ফকির ইয়াসির আরাফাত

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০ , ১১:১৩ এএম


১২ রাশির জাতক-জাতিকার রাশিগত রোগ ও তার কারণ

আজ মেষ থেকে কন্যা পর্যন্ত

জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে মেষ থেকে মীন রাশি পর্যন্ত ১২ টি রাশিকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য মতে মানব দেহের অঙ্গ বিভাগ অনুসারে ১২ টি ভাগে ভাগ করা হয়। পাশ্চাত্য জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে জাতকের রাশি ফল বা রাশি বৈশিষ্ট্য লিখতে গিয়ে নির্দিষ্ট অঙ্গ সম্পর্কিত রোগব্যাধির পূর্বাভাষ দেওয়া হয়ে থাকে। কেন এ রোগ ব্যাধির বিচার করা হয় তার ব্যাখ্যা আমরা অনেকেই জানতে চাই না। শাস্ত্র মতে মেষ রাশি মস্তক, বৃষ রাশি কন্ঠস্বর, মিথুন রাশি কাঁধ থেকে বাহু কর্কট বক্ষ ফুসফুস, সিংহ হৃদপিণ্ড,কন্যা পাকস্থলী ও অন্ত্র, তুলা কিডনি পরিপাক অন্ত্র, বৃহদান্ত, বৃশ্চিক প্রজনন অঙ্গ, ধনু কোমর উড়–দ্বয়, মকর হাঁটু বা জানু, কুম্ভ পায়ের গোড়ালি, মীন পায়ের পাতা নির্দেশ করে। এবং সূর্যস্থিত রাশি থেকেই এ রোগ ব্যাধির কার্যকারিতা আলোচনা করা হয়।

এই বিভাজনের যথাযথ কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেলো আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত খেলা করছে বারোটি অজৈব খনিজ লবণ এবং এর ভারসাম্যটা। যখনই এ খনিজ লবণগুলোর ঘাটতি তৈরি হয় তখন ঐ রাশি সংক্রান্ত রোগে জাতক বা জাতিকাকে ভুগতে হয়। একে বলে খনিজ লবণের সেতু-বন্ধন বা ব্রিজ অব সল্ট।

মাতৃ জঠরে যে তরল খনিজ লবণের মিশ্রণের মধ্যে আমাদের ভ্রূণ ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায় সেখানে প্রয়োজনীয় ১২ টি মূল্যবান খনিজ লবণ বিদ্যমান থাকে। কিন্তু সে লবণগুলোর কার্যকারিতা পূর্ণতা আরম্ভ হয় রবির সে লবণ নির্দেশকারী রাশিতে সম্পূর্ণকাল অবস্থানের মাধ্যমে। প্রকৃতির বিধানে মানব শিশু সে গর্ভে ১২ মাস কাল সময় পূর্ণরূপে অবস্থান করতে পারে না। ৯টি সৌর মাসের পর তাকে ১০ম সৌরমাসের প্রারম্ভে বা মধ্যভাগে বেড়িয়ে আসতে হয় মাতৃ জঠর থেকে। ফলে ১০,১১,এবং ১২ রাশি নির্দেশিত মূল খনিজ লবণের ঘাটতি জাতকের জন্ম কাল থেকেই রয়ে যায়। এবং সে সংশ্লিষ্ট পিড়ায় জাতক জীবনে ভুগতে থাকে। এটাকেই জ্যোতিষ শাস্ত্রর ভাষায় বলা হয় রশি গত রোগ ব্যাধি।

আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে আপনাদের সামনে কিছু উদাহরণ তুলে ধরছি।

মেষ রাশি (যাদের জন্ম ২১মার্চ-২০ এপ্রিল): এ রাশির খনিজ লবণ হলো পটাশিয়াম ফসফেট (ক্যালিফস)। এটি নার্ভ সিস্টেমের প্রধান পুষ্টিকর লবণ। একে খনিজ লবণের রাজা বলা হয়। মেষ রাশি মস্তিষ্কের নির্দেশক, আর ক্যালিফস মস্তিষ্কের ধূসর কণা তৈরি ও সাম্যতা বজায় রাখে। এর ঘাটতি হলে বিষণ্ণতা, অনিদ্রা, বিরক্তি, মৃগী, মাথাব্যথা,  স্নায়বিক বৈকল্য, অবসাদ, স্মৃতি বিভ্রাট হয়। মেষ রাশির জাতক-জাতিকা এ জন্যই উচ্চ রক্তচাপে ভোগে এবং এদের মস্তিষ্কে রক্ত-ক্ষরণের আশঙ্কা বেশি। যে সকল জাতক-জাতিকার জন্ম মেষ রাশির সময় কালে তারা পটাশিয়াম ফসফেট এর ঘাটতিতে সর্বদা ভুগবেন।

বৃষ রাশি (২১ এপ্রিল থেকে ২০ মে): বৃষ রাশির মূল খনিজ লবণ হচ্ছে সোডিয়াম সালফেট বা নেট সালফ। নেট সালফের কাজ হচ্ছে শরীর থেকে অতিরিক্ত তরল পদার্থ বের করে শরীরে তরল পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করা। যখন দেহে হজম সংক্রান্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়,তখন বদহজম, গ্যাস্ট্রিকের পীড়া, ঘনঘন জ্বর, হৃদযন্ত্রের জ্বালাপোড়া, ঘনঘন শ্বাসপ্রশ্বাস, ক্লান্তি অনুভব, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, বাত-জ্বর, টনসিল ও ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দেয়। হজম সংক্রান্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, পিত্তরস, অগ্নাশয়ের রস ও কিডনির নিঃসরণে সোডিয়াম সালফেট কাজ করে।

মিথুন রাশি (২১ মে-২০জুন):  মিথুন রাশির মূল খনিজ লবণ হচ্ছে পটাশিয়াম ক্লোরাইড (ক্যালিমূর):  ক্যালিমূর আমাদের দেহের রক্ত ও পেশির কোষ গঠনে, রক্তের সরবরাহ ও জমাটবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর। পটাশিয়াম ক্লোরাইডের ঘাটতি হলে ঠাণ্ডা, শ্বাসনালীর সংকোচন, সাইনাসের সমস্যা, গ্রন্থিবৃদ্ধি, কাঁধে ঘাড়ে বা বাহুতে ব্যথা, পেশি ও স্নায়ুর প্রদাহ, নাক-কান বন্ধ, শ্বাসকষ্ট, বমি দেখা দেয়। পটাশিয়াম ক্লোরাইড শ্লেষ্মাকে ভেঙে দেহকে নতুন কোষ গঠনে পুষ্টি সরবরাহ করে।

কর্কট রাশি (২১ জুন-২০ জুলাই): এ রাশির খনিজ লবণ ক্যালসিয়াম ফ্লুরাইড(ক্যালি ফ্লোর)। এর ঘাটতিতে শরীরের শক্ত ট্যিসু যেমন দাঁত, হাড়ের, নখের চোখের লেন্স পেশির দৃঢ়তা হানী ঘটে। ক্যালি ফ্লোর শ্লেষ্মা ঝিল্লির স্থিতিস্থাপকতা পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত আবেগ প্রবণতা প্রতিহত করা, স্নায়ুকে সতেজ রাখার জন্য ক্যালি ফ্লোর এর ব্যবহার চিকিৎসা বিজ্ঞানে হচ্ছে।

সিংহ রাশির (২১ জুলাই-২১ আগষ্ট): খনিজ লবণ ম্যাগনেসিয়াম ফসফেট (ম্যাগ ফস)। এটি হৃদ রোগের একটি মহা প্রতিষেধক। ধমনির পেশি ঢিলা, খিঁচুনি, পক্ষাঘাত, বাত ব্যথা শ্বাসনালীর বাধা, তীব্র হাঁপানির আক্রমণে এটি কার্যকর।

কন্যা রাশির (২২ আগষ্ট-২২ সেপ্টেম্বর): এ রাশির মূল খনিজ লবণ পটাশিয়াম সালফেট (ক্যালি সালফ)। এটি হজম শক্তি ও কিডনির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ত্বকের সকল সমস্যায়, নারীর ত্বকের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে, ঘামের প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে ক্যালি সালফ এর ব্যবহার করা হয়। পটাশিয়াম সালফেট আয়রন ফসফেটের সঙ্গে একত্রে মিলে কাজ করে। এটি খাদ্যের পুষ্টিগুণকে সংগ্রহ করে তা সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গে বিতরণে সাহায্য করে। ক্ষুদ্রান্ত, প্লীহা, হজম যন্ত্রকে সতেজ রাখে। (চলবে...)

সকলের মঙ্গল কামনায় আজকের মতো এখানেই বিদায়।  

আপনাদের জ্যোতিষ

ইয়াসির আরাফাত

প্রয়োজনে-০১৭১৬-৬০৮০৮২

এম 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission