ঘরোয়া রান্নায় নতুন স্বাদের খোঁজে থাকলে মাংসের বালাচাও হতে পারে দারুণ একটি পদ। কোরবানির ঈদ শেষ হওয়ার পর এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই গরুর মাংসের মজুত—আর সেই মাংসকে ভিন্ন স্বাদে সংরক্ষণ ও উপভোগ করার দারুণ উপায় হতে পারে এই রেসিপি। চর্বিহীন গরুর মাংস দিয়ে তৈরি এই মুখরোচক পদ শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, সঠিকভাবে প্রস্তুত ও সংরক্ষণ করলে এটি অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে চর্বিহীন গরুর মাংস নিতে হবে। এরপর এতে আদা-রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ, ধনে ও জিরার গুঁড়া এবং গরমমসলা মিশিয়ে ভালোভাবে মেখে অন্তত দুই ঘণ্টা ম্যারিনেট করে রাখতে হয়।
ম্যারিনেট করা মাংস এরপর চুলায় বসিয়ে পরিমাণমতো পানি দিয়ে সেদ্ধ করা হয়, যতক্ষণ না এটি একেবারে নরম হয়ে যায়। সেদ্ধ হয়ে গেলে শুরু হয় শুকানোর প্রক্রিয়া। এটি দুইভাবে করা যায়—একটি হলো প্যানে অল্প তেলে হালকা ভেজে নেওয়া, আরেকটি হলো রোদে ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া।
ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া মাংস পরে কাঁচের বয়ামে সংরক্ষণ করা হয়, যা সঠিকভাবে রাখলে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।
খাওয়ার সময় এই শুকনো মাংস ঝুরা করে নিতে হয়। এরপর এতে মেশানো হয় ভাজা পেঁয়াজ, কাঁচা পেঁয়াজ, আদা কুচি, ভাজা রসুন, ধনেপাতা, কাঁচা মরিচ, চিলি ফ্লেক্স, সামান্য লবণ এবং সরিষার তেল। সব উপকরণ মিশিয়ে তৈরি হয় মুখরোচক বালাচাও।
এই পদ ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি হঠাৎ অতিথি এলে দ্রুত পরিবেশন করার জন্যও উপযুক্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাংস ভালোভাবে শুকিয়ে এয়ারটাইট বয়ামে সংরক্ষণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এতে বাতাস ঢোকার সুযোগ থাকে না, ফলে খাবার দীর্ঘদিন ভালো থাকে। বর্তমানে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে ফাঙ্গাস বা সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেক কমে যায়।
সহজ পদ্ধতিতে তৈরি এই মাংসের বালাচাও তাই ঘরে তৈরি ঝটপট মুখরোচক খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন আপনিও।
আরটিভি/জেএমএ




