কখন করবেন রুট ক্যানাল

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

রোববার, ০৬ জুন ২০২১ , ০৬:২১ পিএম


কখন করবেন রুট ক্যানাল
ফাইল ছবি

দাঁতের সমস্যায় রুট ক্যানাল পরিচিত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। স্থানীয় অ্যানাস্থেশিয়ার মাধ্যমে এটি করা তুলনামূলক যন্ত্রণাহীন। দাঁতের গোঁড়ার পাল্প পর্যন্ত পৌঁছে যায় এই চিকিৎসা। অনেক সময় দাঁত তুলে ফেলার থেকে গোঁড়ার সমস্যা সারিয়ে ফেলার ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগার জন্য এই পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে বা সামনের দিকের দাঁতে সমস্যা তৈরি হলে শেষ চিকিৎসা হয় দাঁত তুলে ফেলা। কিন্তু এর পরিবর্তে রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে দাঁতের শিকড় পর্যন্ত সমস্যাটি সমাধান করা যায় কি?

বিভিন্ন কারণেই দাঁতের গোঁড়া সংক্রমিত হতে পারে। যেমন-

  • দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে থাকায় দাঁতে বেড়ে যাওয়া ক্যাভিটির ফলে নার্ভ এক্সপোজড হয়ে পড়া।
  • দাঁতে তৈরি হওয়া কোনো ফাটল বা গর্ত বেড়ে যাওয়ার সমস্যা।
  • কোনো চোট বা আঘাতে দাঁতের গোঁড়া নড়ে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, ক্যাভিটি যদি দাঁতের গভীর পর্যন্ত পৌঁছায় অর্থাৎ যাকে আর ফিলিং করে সারানো সম্ভব হয় না ঠিক তখনই রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্টের সহযোগিতা নেই আমরা। ছোটদের ক্ষেত্রে খেলাধুলা বা অন্য কোনোভাবে আঘাত লেগে দাঁত নড়ে যায়। এ সময় দুটি মাত্র বিকল্প উপায় থাকে, যেমন- দাঁত তুলে ফেলা নয়তো রুট ক্যানাল করে দাঁত রেখে দেয়া।

রুট ক্যানাল কী : দাঁতের জীবিত অংশ হলো দাঁতের পাল্প। নার্ভ, কানেক্টিভ টিসু এবং রক্তনালী দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে পাল্প। এটি দাঁতের গোঁড়ার অংশ। রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্টের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এই অংশটুকু বের করে পরিষ্কার করা হয়। আর ভিতরে ফিলিং মেটারিয়াল দেয়া হয়। এতে দাঁত সম্পূর্ণ ডেড স্ট্রাকচারে পরিণত হলেও কাঠামো মজবুত থাকে। শেষে ক্যাপ বা ক্রাউন পড়ানো হয়। এই ক্যাপ মেটাল, ফাইবার ইত্যাদি দ্বারা তৈরি হতে পারে।

একাধিক সিটিংয়ে  রুট ক্যানাল চিকিৎসা করা হয়। সংক্রমণের মাত্রা খুব বেশি নয়, ক্যানালগুলোর খুব বেশি ক্ষতি হয়নি তাহলে এক সিটিংয়ে চিকিৎসা করা হয়।

রুট ক্যানাল ফেলিয়োর : অনেক সময়ই রুট ক্যানাল ফেলিয়োর হয়ে থাকে। অন্যতম কারণ হলো, যদি ফিলিংটা ভালো করে না হয়ে ডেড স্পেস থেকে যায় কিংবা ভিতরে ইনফেকশনের রেশ থেকে যায়। এমনটা হলে চিকিৎসার পরও সমস্যায় ফেলতে পারে সেই দাঁত। রুট ক্যানাল করা দাঁত দিয়ে শক্ত খাবার খাওয়ার সময় আঘাত লাগলে ফ্র্যাকচার হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, রুট ক্যানাল চিকিৎসার ২৫ শতাংশ যদি চিকিৎসকের কাজ হয় তাহলে বাকি ৭৫ শতাংশ মেইনটেন্ট করা রোগীর দায়িত্ব। চিকিৎসকরা বছর পাঁচেকের মতো কথা বললেও রুট ক্যানাল চিকিৎসার সুফল ১০-১৫ বছর পর্যন্ত পাওয়া যেতে পারে।

দাঁতে খাবার আটকালে, আশপাশের দাঁতে ক্যাভিটি হলে বা উপরের ক্রাউনটা কোনোভাবে নষ্ট হলে রুট ক্যানাল ট্রিটমেন্ট ফেলিয়োর হতে পারে। তাই এই চিকিৎসার পর বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। নিয়মগুলো হলো-

  • দাঁতের ওই নির্দিষ্ট অংশ দিয়ে শক্ত কিছু খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
  • নিয়মিত ব্রাশ এবং ফ্লস করা জরুরি। দুটো সাধারণ দাঁতের কন্টাক্ট পয়েন্ট, আর রুট ক্যানাল করা দাঁতের সঙ্গে পাশেরটির কন্টাক্ট পয়েন্টের মধ্যে পার্থক্য থাকে। ক’বছর পরে কন্টাক্ট পয়েন্টগুলো চওড়া হতে পারে। নিয়মিত ব্রাশ আর ফ্লস করার অভ্যাস সুবিধা পাওয়া যায়।
  • ডায়েটে বেশি করে ফাইবার রাখা উচিত। বেশি সুগার কনটেন্ট আছে এমন খাবার, অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট কম খেলেই ভাল। এতে করে চিকিৎসার ফল দীর্ঘস্থায়ী হয়।
  • রুট ক্যানাল করা দাঁত নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি। কয়েক মাস পর পর চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়া উচিত। সূত্র : আনন্দবাজার

এসআর/

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission