জোঁকের তেল ব্যবহার নিয়ে কি বলছে চিকিৎসা বিজ্ঞান

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৫ আগস্ট ২০২৫ , ১১:০৮ এএম


জোঁকের তেল
ছবি: সংগৃহীত

বাজারে নানা রকম হারবাল বা আয়ুর্বেদিক তেলের অভাব নেই। কিন্তু আলোচনায় সবার চেয়ে এগিয়ে ‘জোঁকের তেল’; সন্দেহ নেই। পুরুষদের গোপন সমস্যার সমাধান করে দাবি করা এই তেলকে ঘিরে মানুষের প্রচণ্ড কৌতূহল। তবে এর ব্যবহার, উপকারিতা এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে সচেতন হওয়াই ভালো।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তেলকে পুরুষদের শক্তি ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জাদুকরী সমাধান হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, অনেকে বলেন এটি টেস্টোস্টেরন হরমোন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, ফলে যৌন সক্ষমতা বাড়ে। আক্রান্ত অঞ্চলে রক্তপ্রবাহ বাড়ায় এবং অধিকাংশ ব্র্যান্ড দাবি করে এতে অশ্বগন্ধা, শতাবরী, মুসলি ইত্যাদি প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, ফলে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। 

বিজ্ঞাপনে গ্যারান্টি দিয়ে বলা হচ্ছে, মাত্র কয়েক ফোঁটা ব্যবহারেই মিলবে অসাধারণ ফল।  

বিজ্ঞাপন

তবে চিকিৎসকরা বলছেন, বিষয়টি মোটেও এমন নয়। তাদের মতে, এ ধরনের তথাকথিত ‘হারবাল’ বা ‘আয়ুর্বেদিক’ তেলের বেশিরভাগই অনুমোদনহীন এবং এতে ব্যবহৃত উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোতে স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো থাকে, যা ত্বকে জ্বালা, অ্যালার্জি, এমনকি উল্টো দীর্ঘমেয়াদী যৌন অক্ষমতা তৈরি করতে পারে। 

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে স্কিনেজ ডার্মাকেয়ারের চীফ কনসালটেন্ট ডা. তাসনিম তামান্না হক আরটিভি অনলাইনকে জানান, জোঁকের থেরাপি বা যেটিকে হিরুডোথেরাপি বলা হয় তা অতি পুরাতন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যা আধুনিক চিকিৎসা শাস্ত্রে এখন আর ব্যবহৃত হয় না। এতে সরাসরি জোঁক ব্যবহৃত হতো কিন্তু জোঁক থেকে তেল তৈরি করে ব্যবহারের কোন রিসার্চ কোথাও পাওয়া যায়নি। 

তিনি বলেন, জোঁকের তেলের অনেক উপকারিতার কথা বলা হলেও এর অনেক অপকারিতা এবং কন্ট্রাইন্ডিকেশন আছে অর্থাৎ কিছু মেডিকেল কন্ডিশন আছে যেখানে এটি ব্যবহার নিষিদ্ধ। যেমন: যাদের কোন কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই কম যেমন যাদের আনকন্ট্রোলড ডায়াবেটিস,  এইডস, ক্যান্সার পরবর্তী কেমোথেরাপি নেওয়ার হিস্ট্রি আছে।

বিজ্ঞাপন

তার মতে, ‘যারা ব্লাড থিনিং মেডিসিন যেমন warfarin সেবন করছেন, যাদের রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না তাদের এটি ব্যবহার একেবারে অনুচিত। এটি নানা কারণে হতে পারে যেমন জেনেটিক ডিজিজ হিমোফিলিয়া, লিভার ডিজিজ, এনিমিয়া, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া বা প্লাটিলেট কমে গিয়েছে এমন ব্যক্তিরা এটি ব্যবহার করলে অতিরিক্ত রক্তপাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। যেহেতু বাংলাদেশে ডেংগুরোগীর সংখ্যা প্রচুর তাই ডেংগু আছে কিনা কনফার্ম না হয়ে এটি ব্যবহার করা যাবে না।’

150523121640_bd_leech_oil_business_640x360

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে যেহেতু জোঁকের তেল উৎপাদন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা আছে তাই ঔষধ প্রশাসনের লাইসেন্স জোঁকের তেলের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং এর সঠিক মনিটরিং ও নেই। তাই জোঁকের তেল নামে বাজারে যা বিক্রি হচ্ছে তাতে কি উপাদান আছে এবং এতে ক্ষতিকারক অন্যান্য উপাদান যেমন স্টেরয়েড বা যৌন উদ্দীপক কোনো ক্ষতিকর উপাদান মিশ্রিত কিনা সেটি নিয়েও সন্দেহ আছে। এগুলোর যথেচ্ছ ব্যবহারে এলার্জিক রিয়েকশন, সেলুলাইটিস থেকে শুরু করে কুশিং সিন্ড্রোম, এড্রিনাল ইনসাফিশিয়েন্সি এর মত সিরিয়াস সাইড এফেক্টও হতে পারে। যা বিপজ্জনক। 

‘তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ ধরনের তেল ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা যৌন সমস্যার মূল কারণ জানেন না, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক বেশি,’ যোগ করেন তিনি।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission