সুস্থ থাকতে দিনে কতবার খাবার খাওয়া উচিত—এই প্রশ্নে অনেকেই বিভ্রান্ত। কেউ মনে করেন দিনে তিন বেলা যথেষ্ট, কেউ আবার অল্প অল্প করে পাঁচ থেকে ছয়বার খাওয়াকে বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে সবার জন্য এক নিয়ম প্রযোজ্য নয়।
পুষ্টিবিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, খাবারের সংখ্যা নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, শরীরের অবস্থা, কাজের ধরন ও জীবনযাপনের ওপর। তাই ট্রেন্ড বা প্রচলিত ধারণা নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন বুঝেই খাদ্যাভ্যাস ঠিক করা উচিত।
দিনে তিন বেলা খাবার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সকাল, দুপুর ও রাত—এই তিন বেলার সুষম খাবারই যথেষ্ট হতে পারে। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় এবং বারবার নাস্তার প্রয়োজনও কমে যায়। এটি সহজে অনুসরণযোগ্য এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
কারা উপকৃত হন তিন বেলা খাবারে
যারা দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন এবং যাদের শারীরিক পরিশ্রম তুলনামূলক কম। তাদের জন্য তিন বেলা খাবার উপযুক্ত হতে পারে।
দিনে ৫ থেকে ৬ বার অল্প অল্প করে খাওয়া
কিছু ক্ষেত্রে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উপকারী হতে পারে। যেমন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যায় এটি কিছুটা সহায়তা করতে পারে। তবে পরিকল্পনা ছাড়া বারবার খেলে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ হয়ে যেতে পারে। ফলে শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
কাদের জন্য এটি উপকারী
যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন বা ব্যায়াম করেন, তাদের ক্ষেত্রে ছোট ছোট ভাগে খাবার খাওয়া কার্যকর হতে পারে।
জরুরী বিষয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কতবার খাচ্ছেন তা নয়, বরং কী খাচ্ছেন সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর উপাদান থাকা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত সময় মেনে এবং সচেতনভাবে খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করাও দরকার।
পুষ্টিবিদদের মতে, বারবার খাওয়াও সবসময় ভালো নয়। বিশেষ করে যাদের হজমের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি নাস্তা উল্টো অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, দিনে তিন বেলা হোক বা পাঁচ-ছয় বেলা, কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম সবার জন্য নয়। নিজের শরীর, প্রয়োজন ও জীবনযাপনের সঙ্গে মানানসই খাদ্যাভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।
আরটিভি/জেএমএ



