সুন্দর হাসি মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যতম পরিচয়। কিন্তু দাঁত যদি আঁকাবাঁকা এবং ফাঁকা হয়, তখন শুধু সৌন্দর্যেই নয়, স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে নেতিবাচক প্রভাব। তাই দাঁত সোজা করার বিষয়টি অবহেলা করার সুযোগ নেই। আসুন জেনে নিই এর সমস্যা এবং সমাধানের পথ।
আঁকাবাঁকা এবং ফাঁকা দাঁত কেন সোজাকরা জরুরি এই বিষয়ে আরটিভি অনলাইনের পাঠকদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তার মোহাম্মাদ নাঈম হোসেন খান। আঁকাবাঁকা এবং ফাঁকা দাঁত নিয়ে চিকিৎসক জানান:
কেন দাঁত সোজা করা উচিত
- দাঁত পরিষ্কার রাখা সহজ হয়
- ক্যাভিটি ও মাড়ির রোগের ঝুঁকি কমে
- খাওয়া ও উচ্চারণে সুবিধা হয়
- চেহারা ও হাসির সৌন্দর্য বাড়া
- আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়
কোন বয়সে দাঁত সোজা করা ভালো
দাঁত সোজা করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো ১৩ থেকে ১৬ বছরবয়স। এ সময় চোয়ালের হাড় পুরোপুরি পরিপক্ব হয় না । তাই এই বয়সেদাঁত সহজে সঠিক অবস্থানে আনা যায়। তবে চাইলে প্রাপ্তবয়স্কদেরওচিকিৎসা সম্ভব, যদিও সময় ও খরচ কিছুটা বেশি হতে পারে।
দাঁত সোজা করার চিকিৎসার ধরণ
ব্রেসেস (Braces): ধাতব বা সিরামিক ব্রেসেস দিয়ে দাঁতকে ধীরেধীরে সঠিক অবস্থানে আনা হয়।
ক্লিয়ার অ্যালাইনার (Clear Aligner): স্বচ্ছ প্লাস্টিকেরঅ্যালাইনার, যা দাঁতের ওপর লাগানো হয় এবং বাইরে থেকে প্রায়বোঝাই যায় না। যারা কম চোখে পড়া চিকিৎসা চান, তাদের জন্যএটি জনপ্রিয়।
লিঙ্গুয়াল ব্রেসেস (Lingual Braces): দাঁতের ভেতরের দিকেলাগানো হয়, তাই বাইরে থেকে দেখা যায় না।
রিটেইনার (Retainer): চিকিৎসা শেষে দাঁতকে সঠিক অবস্থানে ধরেরাখতে ব্যবহৃত হয়।

না করলে কী হতে পারে
* দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে গিয়ে ক্যাভিটি হতে পারে
* মাড়িতে প্রদাহ, রক্তক্ষরণ ও দুর্গন্ধের ঝুঁকি বাড়ে
* দাঁত দুর্বল হয়ে ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে পারে
* ভবিষ্যতে চিকিৎসা আরও জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে
* আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং হাসিতেও অস্বস্তি আসে।
উল্লেখ্য, আঁকাবাঁকা দাঁত কেবল সৌন্দর্যের সমস্যা নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যেরজন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই যাদের দাঁত এখনো ঠিক করা হয়নি, তারা দেরি নাকরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক চিকিৎসা বেছেনিন। সুস্থ দাঁত, সুন্দর হাসি আপনার আত্মবিশ্বাসের মূল ভিত্তি।
আরটিভি/এসকে




