দন্ড কলস অবহেলিত আগাছা হলেও ওষধি গুণে অসাধারণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১২:৩১ পিএম


দন্ড কলস অবহেলিত আগাছা হলেও ওষধি গুণে অসাধারণ
দন্ড কলস। ছবি: সংগৃহীত

দন্ড কলস, যা গ্রাম বাংলায় শ্বেতদ্রোণ, দল কলস, ধুলফি বা হলকষা নামেও পরিচিত, সাধারণত রবি শস্যের ক্ষেতে বা উঁচু জমিতে আগাছা হিসেবেই বেশি জন্মায়। এর খাড়া কান্ড, চার কোণাকার ডালপালা এবং সাদা ফুলগুলি এটিকে সহজেই চেনা যায়। এটিকে অনেকেই অবহেলা করলেও, আয়ুর্বেদ এবং লোক-ঔষধি চিকিৎসায় এই গাছটির মূল, পাতা ও ফুল শত শত বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দন্ড কলস গাছটি মূলত এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি (প্রদাহরোধী), অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল (জীবাণুরোধী) এবং অ্যান্টি-অ্যালার্জিক (অ্যালার্জি প্রতিরোধক) বৈশিষ্ট্যের জন্য সুপরিচিত।

দন্ড কলস গাছের মূল স্বাস্থ্য উপকারিতা
​দন্ড কলসের পুরো গাছটিতেই বিশেষ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা এটিকে বিভিন্ন রোগের উপশমে সাহায্য করে। এর প্রধান ঔষধি গুণাগুণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সর্দি, জ্বর ও শরীর ব্যথা নিরাময়
​দন্ড কলসের পাতার রস বা সেদ্ধ পাতা ভর্তা করে খেলে সাধারণ সর্দি-জ্বর, কাশি এবং এর ফলে হওয়া শরীরের ব্যথা উপশম হয়। এর পাতার নির্যাস রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়তা করে।

​২. শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় মুক্তি (হাঁপানি/অ্যাজমা)
​এটি দন্ড কলস গাছের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার। লোক-ঔষধ অনুসারে, এর শিকড় তুলে গোলমরিচের সঙ্গে বেটে নির্দিষ্ট নিয়মে খেলে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। এটি শ্বাসনালীকে শিথিল করতে এবং কফ নিঃসরণে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।

৩. হজমশক্তি বৃদ্ধি ও পেট ফাঁপা দূর
​বদহজম, পেট ফাঁপা বা গ্যাস-অম্বলের মতো সমস্যায় দন্ড কলসের পাতা সেদ্ধ করে ভর্তা করে খেলে তা উপশম হতে পারে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে এবং অন্ত্রের গ্যাস কমাতে সহায়ক।

৪. চর্মরোগ ও ত্বকের সংক্রমণ নিরাময়
​দন্ড কলস গাছের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণের কারণে এটি বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগে ব্যবহার করা হয়। খোস-পাঁচড়া, চুলকানি বা ত্বকের অ্যালার্জিতে এর পাতা বেটে পেস্ট করে লাগালে আরাম পাওয়া যায় এবং সংক্রমণ কমে।

​৫. কৃমি ও পরজীবী দমন
​পেটে কৃমি বা পরজীবী সমস্যা থাকলে দন্ড কলসের শাক ভেজে বা এর রস পান করলে তা কৃমি দমনে সহায়তা করে। এটি শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতেও কার্যকর।

৬. চোখের সমস্যায় ব্যবহার

কিছু প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি অনুসারে, দন্ড কলসের পাতার রস চোখে ২ ফোঁটা করে দিলে ছানি বা চোখ থেকে জল পড়ার মতো সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়। তবে এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

​৭. বাতের ব্যথা ও গাঁটের ফোলা উপশম

শরীরে বিষ ব্যথা বা বাতের ব্যথা (আর্থ্রাইটিস) হলে দন্ড কলস ছেঁচে রস বের করে বা এর পাতা বেটে গরম করে মালিশ করলে প্রদাহ ও ব্যথা কমে আসে। এটি মচকানো বা আঘাতজনিত ফোলা কমাতেও ব্যবহৃত হয়।

দন্ড কলস খাদ্য এবং ব্যবহার পদ্ধতি

দন্ড কলস বা শ্বেতদ্রোণ সাধারণত শাক হিসেবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন অঞ্চলে এর পাতা, ফুল এবং কচি ডালপালা ব্যবহৃত হয়।

শাক হিসেবে: পাতা এবং কচি ডালপালা নুন, হলুদ, কালোজিরা ও রসুন দিয়ে ভেজে বা ভর্তা করে খাওয়া হয়।

ভর্তা: পাতা সেদ্ধ করে কাঁচামরিচ, লবণ, ও রসুন সহযোগে ভর্তা তৈরি করা হয়।

শিশুদের সর্দি: ছোট বাচ্চাদের সর্দি হলে পাতা বেটে মায়ের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মাথার চাঁদিতে দিয়ে রাখলে তা উপশম হতে পারে। ফুলের মধুও সর্দিতে উপকারী।

ওষধি গাছ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। উল্লিখিত ব্যবহারগুলো প্রধানত লোক-ঔষধ এবং ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে করা। যেকোনো গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসায় দন্ড কলস ব্যবহারের পূর্বে একজন বিশেষজ্ঞ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বা ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission