সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন পেতে নিয়মিত ব্যায়াম যে জরুরি, তা সবারই জানা। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে জিমে যাওয়ার সময় বা প্রতিদিন ১০ হাজার ধাপ হাঁটার সুযোগ অনেকেরই হয় না। নতুন গবেষণা বলছে, এই সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কিন্তু জোরালো শারীরিক নড়াচড়ার মধ্যেই।
বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ভিগোরাস ইন্টারমিটেন্ট লাইফস্টাইল ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি (VILPA)। সহজ কথায়, খুব অল্প সময়ের জন্য শক্তভাবে শরীর নড়ানো। যেমন সিঁড়ি বেয়ে দ্রুত ওঠা, হাঁটার সময় হঠাৎ গতি বাড়ানো, বাগানে জোরেশোরে কাজ করা কিংবা শিশু ও পোষা প্রাণীর সঙ্গে দৌড়ঝাঁপ।
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যে পরিচালিত একটি বড় গবেষণায় ২৫ হাজারের বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন থেকে চারবার এক মিনিট করে VILPA করলে অকাল মৃত্যুঝুঁকি কমে প্রায় ৪০ শতাংশ এবং হৃদরোগে মৃত্যুঝুঁকি কমে প্রায় ৪৯ শতাংশ।
সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিউ আহমাদি বলেন, এ ধরনের ছোট কিন্তু শক্তিশালী শারীরিক কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমায় এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর দুর্বল হয়ে পড়া ঠেকাতে সাহায্য করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিওএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষ পর্যাপ্ত শারীরিক সক্রিয়তা না থাকার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। সময়ের অভাব, কাজের চাপ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন মানুষকে আরও বেশি বসে থাকার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
লাফবরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমান্ডা ডেলি বলেন, সময় না পাওয়াই মানুষের সবচেয়ে বড় অজুহাত। VILPA পদ্ধতিতে দিনে কয়েক মিনিটই যথেষ্ট, তাই এটি সহজ, সাশ্রয়ী এবং সবার জন্য কার্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আলাদা করে জিমে যেতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ভারী বাজারের ব্যাগ বহন, ঘর পরিষ্কার, সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কিংবা দ্রুত হাঁটাও শরীরের জন্য উপকারী।
এমনকি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে মাত্র ২২০০ থেকে ২৭০০ ধাপ হাঁটলেও হৃদরোগ ও অকাল মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। অর্থাৎ ১০ হাজার ধাপের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কিছুটা হাঁটলেই লাভ আছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র তিন থেকে চার মিনিটের VILPA ক্যানসারের ঝুঁকি ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শারীরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে মূল কথা একটাই কিছু করা মানেই লাভ। অল্প অল্প করে শুরু করলেই শরীর ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
তাই লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, হাঁটার সময় একটু গতি বাড়ানো, ঘরের কাজ জোরেশোরে করা কিংবা বাচ্চাদের সঙ্গে খেলাধুলা- এই ছোট অভ্যাসগুলোই ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্য সুরক্ষার ঢাল হয়ে উঠতে পারে।
আরটিভি/এমএইচজে





