ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

সংকটের মুখে পেট্রোল ভরেই অকটেনের গাড়ি চালাচ্ছেন অনেকে, বিপদ কতটা?

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

ইরান যুদ্ধের ফায়দা লুটতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে কারসাজিতে মেতে উঠেছেন মজুতদাররা। লাগাতার অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বাজারের অস্থিরতা কাটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও দেখা যাচ্ছে যানবাহনের লম্বা লাইন। ঘন্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককে। এ অবস্থায় অকটেন চালিত অনেক গাড়ির মালিক বিকল্প হিসেবে পেট্রোল কিনেই চাহিদা মেটাচ্ছেন।

পরিস্থিতির বিবেচনায়, অকটেনে অভ্যস্ত ইঞ্জিন পেট্রল দিয়ে চালানো আসলে কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই।

প্রকৃতপক্ষে, অকটেন আলাদা কোনও জ্বালানি নয়; এটি জ্বালানির দহনক্ষমতা পরিমাপের একটি একক। বাজারে যে জ্বালানিকে অকটেন নামে বেচাকেনা হয়, সেটি মূলত উচ্চমানের পরিশোধিত পেট্রল, যার অকটেন রেটিং বেশি; সাধারণত ৯৫ বা তার বেশি হয়ে থাকে। ইঞ্জিনের ভেতরে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণে যখন পিস্টন চাপ দেয়, তখন সেটি স্পার্ক প্লাগের আগুনের আগেই নিজে নিজে জ্বলে উঠতে চায়। জ্বালানি যদি এই অকাল দহন রোধ করতে পারে, তবেই তাকে উচ্চমানের জ্বালানি বলা হয়। অকটেন রেটিং যত বেশি হয়, জ্বালানি তত বেশি চাপ সহ্য করতে পারে।

তাত্ত্বিকভাবে, পেট্রল ও অকটেন দুটোই হাইড্রোকার্বন-ভিত্তিক জ্বালানি। তবে, আধুনিক গাড়ি বা হাই-পারফরম্যান্স বাইকগুলো একটি নির্দিষ্ট কম্প্রেশন রেশিও বা চাপের পরিমাপ মাথায় রেখে তৈরি করা হয়।

আরও পড়ুন

তাই কোনও গাড়ির ম্যানুয়ালে যদি অকটেন ব্যবহারের নির্দেশনা থাকে, তবে সেখানে পেট্রল ব্যবহার না করাই ভালো। জরুরি প্রয়োজনে পেট্রল যদি নিতেই হয়, তবে খুব সামান্য পরিমাণে নেওয়া যেতে পারে, যাতে পরবর্তী পাম্প পর্যন্ত যাওয়া যায়। কিন্তু, অকটেনের গাড়িতে নিয়মিত পেট্রোল ব্যবহার বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

অকটেনের ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট্রলের দহনক্ষমতা অকটেনের চেয়ে কম। এর ফলে পিস্টন ওপরে ওঠার আগেই জ্বালানি জ্বলে ওঠে। এতে ইঞ্জিনের ভেতর থেকে ধাতব ঠকঠক শব্দ হয়, যাকে বলা হয় নকিং। এটি ইঞ্জিনের পিস্টন ও সিলিন্ডারের মারাত্মক ক্ষতি করে। উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ি তার স্বাভাবিক শক্তি হারায়। তেমনটা ঘটলে অ্যাকসিলারেটর চাপলেও গাড়ি আগের মতো গতি পাবে না এবং মাইলেজ দ্রুত কমতে থাকবে।

এছাড়া, অকটেন অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে জ্বলে। বিপরীতে পেট্রোল পুরোপুরি না জ্বলার কারণে ইঞ্জিনের ভালভ এবং স্পার্ক প্লাগে কার্বনের আস্তরণ জমা হয়। এতে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়। ভুল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের দহনপ্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, যা ইঞ্জিনকে দ্রুত গরম করে তোলে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে চললে ইঞ্জিন সিজ করার ঝুঁকি থাকে।

প্রতিটি গাড়ির সঙ্গে একটি ইউজার ম্যানুয়াল থাকে। সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে, গাড়ির জন্য কত রেটিংয়ের জ্বালানি প্রয়োজন। সেটি মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।

অনেকে আবার মনে করেন, অর্ধেক পেট্রল আর অর্ধেক অকটেন মিশিয়ে নিলে সাশ্রয় হবে। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল। এতে জ্বালানির মান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং সেন্সরযুক্ত আধুনিক ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়।

শুধু অকটেন বা পেট্রোল বাছাই করাই শেষ কথা নয়; জ্বালানির মান যেন খাঁটি হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। তাই বিশ্বস্ত পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া উচিত। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে বা খামখেয়ালি মতো অকটেনের গাড়িতে পেট্রোল ভরে চালালে দীর্ঘ মেয়াদে এটি বড় খরচের কারণ হতে পারে।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
‘সংকট সমাধানে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত, সরকার ভ্রুক্ষেপ করেনি’
হলে ওঠার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় ঢাকা কলেজের ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীর
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
হলে সিট না পেয়ে থাকতে হচ্ছে বাইরে, দিতে হচ্ছে ‘বড় মাশুল’