গ্রীষ্মের দাবদাহে বাজারে উঠতে শুরু করেছে নানা মৌসুমি দেশি ফল। এর মধ্যে কচি তাল বা তালের শাঁস এখন বেশ জনপ্রিয়। নরম, স্বচ্ছ ও রসালো এই ফলটি গরমে যেমন স্বস্তি দেয়, তেমনি শরীরের জন্যও বেশ উপকারী।
পুষ্টিবিদদের তথ্যমতে, প্রতি ১০০ গ্রাম তালের শাঁসে রয়েছে প্রায় ২৯ কিলোক্যালরি শক্তি, ৯২ শতাংশের বেশি জলীয় অংশ, ৬ দশমিক ৫ গ্রাম শর্করা, খাদ্য আঁশ, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-সি। ফলে গরমে শরীরকে হাইড্রেট রাখতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত গরমে ঘাম ও ক্লান্তির কারণে শরীরে যে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, তালের শাঁস তা অনেকটাই পূরণ করতে সহায়তা করে। এতে থাকা প্রাকৃতিক জেল জাতীয় উপাদান পেট ভরা অনুভূতি তৈরি করে, যা অতিরিক্ত ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া তালের শাঁসে থাকা খাদ্য আঁশ হজম প্রক্রিয়া সহজ করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক। এতে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে গরমে দুর্বলতা ও ক্লান্তি কিছুটা কমে।
তালের শাঁস আয়রনের একটি ভালো উৎস হিসেবেও পরিচিত। এটি রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড় মজবুত রাখতে ভূমিকা রাখে। ভিটামিন-এ, ভিটামিন-সি ও বি-কমপ্লেক্স থাকায় এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সহায়ক।
পুষ্টিবিদদের ধারণা, নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে তালের শাঁস খেলে ত্বকের শুষ্কতা কমতে পারে এবং চুল পড়া নিয়ন্ত্রণেও উপকার মিলতে পারে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি লিভারের কার্যকারিতা সমর্থন করতেও সহায়তা করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোনো খাবারের মতো তালের শাঁসও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। অতিরিক্ত খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই গরমে প্রশান্তি পেতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে পরিমিত পরিমাণে তালের শাঁস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আরটিভি/এসকে




