গালি দিয়ে এত সুখ পাওয়া যায় কেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০৩:২৫ পিএম


গালি দিয়ে এত সুখ পাওয়া যায় কেন
গালি দিলে কেন এত ভালো লাগে  । ছবি: সংগৃহীত

রাস্তায় হঠাৎ হোঁচট খেলে বা তীব্র ব্যথা পেলে অনেকের মুখ থেকেই বেরিয়ে আসে গালি। ভদ্র-শান্ত মানুষও সেই মুহূর্তে নিজেকে সামলাতে পারেন না। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই অশিষ্ট শব্দ বলার পরই কেন মানুষ এক ধরনের আরাম বা স্বস্তি অনুভব করে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালি দেওয়া কেবল রাগ বা অভ্যাস নয়, এর পেছনে কাজ করে আমাদের মস্তিষ্ক ও আবেগের গভীর সম্পর্ক।

গালি কী, কেন আমরা বলি

গালি নিয়ে গবেষণা করা বিশেষজ্ঞ ড. এমা বার্নের মতে, গালি এমন এক ধরনের ভাষা যা মানুষ বিস্ময়, ব্যথা, রাগ বা আনন্দের মুহূর্তে ব্যবহার করে। এটি নির্দিষ্ট সমাজ ও সংস্কৃতির ট্যাবুর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।

অর্থাৎ, কোন শব্দটি গালি হবে তা নির্ধারণ করে দেয় সেই সমাজের মানুষরাই। যে শব্দগুলো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ বা অস্বস্তিকর বিষয়কে ইঙ্গিত করে, সেগুলোই ধীরে ধীরে গালিতে পরিণত হয়।

তিনি বলেন, গালি এমন শব্দ যা আমরা সাধারণ পরিস্থিতিতে ব্যবহার করি না—যেমন অফিস সাক্ষাৎকার বা নতুন কারও পরিবারের সঙ্গে প্রথম দেখা।

মস্তিষ্কে গালির প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, গালি দেওয়া সময় আমাদের মস্তিষ্কে আবেগজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ভাষা নিয়ন্ত্রণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গালি দেওয়ার ক্ষমতা থেকে যায়। কারণ আবেগের সঙ্গে যুক্ত শব্দগুলো মস্তিষ্কের ভিন্ন অংশে সংরক্ষিত থাকে।

আরও পড়ুন

ব্যথা কমাতে কি গালি সাহায্য করে?

বিশেষজ্ঞ ড. রিচার্ড স্টিভেন্সের গবেষণায় দেখা গেছে, গালি দিলে শারীরিক ব্যথা কিছুটা সহনীয় হয়ে ওঠে।

একটি পরীক্ষায় বরফঠান্ডা পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখা ব্যক্তিরা যখন গালি দিচ্ছিলেন, তখন তারা তুলনামূলক বেশি সময় ব্যথা সহ্য করতে পেরেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গালি দিলে শরীরে চাপ বা উত্তেজনা বাড়ে, যা পরে ব্যথার অনুভূতিকে কমিয়ে দেয়।

সব সংস্কৃতিতেই আছে গালি

বিশ্বের প্রায় সব ভাষা ও সংস্কৃতিতেই গালির অস্তিত্ব রয়েছে। স্প্যানিশ, রুশ কিংবা চীনা ভাষায় গালির ধরন আলাদা হলেও এর ব্যবহার প্রায় একই।

কিছু গালি এতটাই শক্তিশালী যে তা পুরো বাক্য জুড়ে ব্যবহৃত হয়, আবার কিছু গালি সামাজিক সম্পর্ক ও পারিবারিক ট্যাবুর সঙ্গে জড়িত।

প্রাণীরাও কি গালি দেয়?

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু শিম্পাঞ্জি নিজেদের মধ্যে ইশারার মাধ্যমে অপমানসূচক আচরণ করে, যা অনেকটা গালির মতোই কাজ করে।

এ থেকে ধারণা করা হয়, ট্যাবু বা নিষিদ্ধ কিছু প্রকাশের প্রয়োজন থেকেই গালির জন্ম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গালি শুধু অশ্লীল শব্দ নয়—এটি মানুষের আবেগ প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম। ব্যথা, রাগ বা চমকের মুহূর্তে মস্তিষ্ক দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতেই এই ভাষা ব্যবহার করে।

অর্থাৎ, গালি যতই অশিষ্ট মনে হোক, এর পেছনে লুকিয়ে আছে মানুষের মস্তিষ্ক ও আবেগের এক চমকপ্রদ বিজ্ঞান।

তথ্যসূত্র: বিবিসি 


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission