হরেক রকমের চায়ের স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণ

তেছা জাহান তন্বী

শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৩৩ এএম


হরেক রকমের চায়ের স্বাদ ও স্বাস্থ্যগুণ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে কিংবা বিশ্বের অনেক দেশেই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি কখনো চায়ের স্বাদ নেননি। বিশেষ করে আমাদের উপমহাদেশে চা যেন শুধু একটি পানীয় নয়—এটি আমাদের সংস্কৃতি, অভ্যাস এবং সামাজিক বন্ধনের এক অপরিহার্য অংশ। ‘চা খায় না এমন মানুষ কম আছে’—এই কথাটি আমাদের সমাজের বাস্তবতা প্রকাশ করে। 

বিজ্ঞাপন

চা পান শুধু মুখরোচক অভ্যাস নয়, এটি একধরনের সংস্কৃতি। সকালবেলা ঘুম ভাঙার পর প্রথম যে জিনিসটি মনে পড়ে তা হলো এক কাপ গরম চা। আবার বিকেলের আড্ডা, অতিথি আপ্যায়ন কিংবা অফিসের ক্লান্তিময় সময়েও চা যেন একমাত্র ভরসা। শহর হোক বা গ্রাম, ধনী হোক বা দরিদ্র—চায়ের প্রতি ভালোবাসা সবার মধ্যেই দেখা যায়।

চায়ের ইতিহাস সম্পকে জানতে গেলে যেতে হবে ব্রিটিশ শাসনামলের  যুগে। চায়ের ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। চীনে প্রথম চা আবিষ্কৃত হলেও ভারত উপমহাদেশে চায়ের বিস্তার ঘটে ব্রিটিশ শাসনামলে। ১৮৫০ এর দশকে আসামে প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান স্থাপন করা হয়। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে দার্জিলিং, সিলেট, চট্টগ্রামসহ নানা অঞ্চলে। বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রামে চায়ের বাগান গড়ে ওঠে এবং এখন তা দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

চাও রয়েছে নানান রকমের। সাধারণত বাংলাদেশে লাল চা ও দুধ চা সবচেয়ে জনপ্রিয়। কিন্তু এর বাইরে রয়েছে গ্রিন টি, হার্বাল টি, মসলা চা, লেবু চা, আদা চা ইত্যাদি। কেউ চিনি ছাড়া খান, কেউ আবার মধু দিয়ে পান করেন। আবার কিছু কিছু অঞ্চলে মশলা চা বা মালাই চায়ের কদর রয়েছে বেশি।

চা শুধু স্বাদের জন্যই নয়, স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্যও জনপ্রিয়। গ্রিন টি এবং হার্বাল চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর, যা শরীরের টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। আদা চা ঠান্ডা-কাশিতে উপকারী, আর লেবু চা হজমে সহায়ক। তবে অতিরিক্ত চা পান করলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও হতে পারে—যেমন ঘুমের সমস্যা বা এসিডিটির সমস্যা। তাই পরিমিত চা পান করাই উত্তম।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে চায়ের দোকানগুলোকে ‘চায়ের স্টল’ বা ‘টং দোকান’ বলা হয়। এ দোকানগুলো শুধু চা বিক্রির জায়গা নয়—এগুলো হলো গ্রামীণ ও শহুরে জীবনের একেকটি মিনি সামাজিক কেন্দ্র। এখানে মানুষ রাজনীতি থেকে শুরু করে খেলাধুলা, বিনোদন, প্রেম-ভালোবাসা এমনকি জীবনদর্শন নিয়েও আলোচনা করে। অনেক বড় বড় চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিকদের লেখালেখির অনুপ্রেরণা এসেছে এমনই কোনো এক টং দোকানের আড্ডা থেকে।

অফিস-আদালত, কল-কারখানা, এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও চায়ের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ক্লান্তিকর কাজের মাঝে এক কাপ চা যেন নতুন উদ্যমে কাজ করার প্রেরণা দেয়। তাই অনেক প্রতিষ্ঠানেই ‘চা-ব্রেক’ নামে নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত থাকে। যারা দৈনিক বহু ঘণ্টা কাজ করেন, তাদের জন্য চা যেন এক আশীর্বাদ।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সচেতনতায় অনেকেই গ্রিন টি বা হার্বাল চায়ের দিকে ঝুঁকছেন। বাংলাদেশেও এর চাহিদা বাড়ছে। বিভিন্ন স্বাদের এবং ব্র্যান্ডের চা এখন সুপারশপ ও অনলাইন মার্কেটপ্লেসে সহজেই পাওয়া যায়। দেশীয় চায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর উপস্থিতিও ক্রমশ বাড়ছে। চায়ের ব্যবসাও এখন একটি লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তাই সবশেষে বলাই যায়, চা খায় না এমন মানুষ সত্যিই কম আছে। চা আমাদের জীবনের সাথে এমনভাবে মিশে গেছে যে, এটি ছাড়া দিন শুরু বা শেষ দুটোই অসম্পূর্ণ মনে হয়। চা শুধু এক কাপ পানীয় নয়, এটি আমাদের চিন্তা, চেতনা, বন্ধন ও সংস্কৃতির প্রতীক। চায়ের এই জনপ্রিয়তা শুধু চলমানই নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে—এটাই স্বাভাবিক।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission