এক সময় সোফা মানেই ছিল শুধু বসার ঘরের আসবাব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই ধারণা। এখন সোফা শুধু ড্রয়িংরুমেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং শোবার ঘর, বারান্দা এমনকি অফিসের ওয়েটিং রুমেও এর ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সোফা এখন আর শুধু বসার জায়গা নয়, এটি রুচি ও ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ।
দিন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটু আরাম করে বসা, হাতে এক কাপ চা নিয়ে গল্প করা কিংবা প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা। এসব মুহূর্তে সোফা যেন হয়ে ওঠে সবচেয়ে আরামদায়ক সঙ্গী। তাই বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় কেমন সোফা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে কিছু বিষয় জানা থাকলে ঘর সাজানো আরও সহজ হয়ে যায়।
সোফার ইতিহাস
আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগে আধুনিক সোফার ব্যবহার শুরু হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর আগে মানুষ সাধারণত বেঞ্চ, কাঠের গুঁড়ি বা বিছানায় বসেই সময় কাটাত। পরে কারিগররা নতুন ধরনের আরামদায়ক বসার আসবাব তৈরি করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখান থেকেই সোফার প্রচলন বাড়তে থাকে।
সোফা শব্দটির উৎপত্তি আরবি ভাষার একটি শব্দ থেকে, যার অর্থ কুশন বিছানো বসার জায়গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আসবাবের নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারেও এসেছে বড় পরিবর্তন।
বসার ঘরের সোফা
বাড়ির বসার ঘরেই সাধারণত সোফার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ঘরের আয়তন অনুযায়ী সোফা নির্বাচন করা উচিত। অনেকেই দুটি দুই আসনের সোফা ও একটি এক আসনের সোফার সমন্বয়ে বসার ঘর সাজান। এতে অতিথি এলে সহজেই সবাই বসার জায়গা পান। ছোট ঘরের জন্য খুব বড় বা ভারী সোফা না নিয়ে তুলনামূলক ছোট ও সরল নকশার সোফা বেছে নেওয়া ভালো। এতে ঘরটি খোলামেলা দেখায়।
শোবার ঘরের সোফা
এখন অনেকেই শোবার ঘরেও সোফা রাখছেন। সেখানে সাধারণত একটি এক আসনের আরামদায়ক সোফা রাখা হয়। কেউ কেউ আবার খাটের পায়ের দিকে লম্বা বেঞ্চের মতো সোফাও ব্যবহার করেন। এতে ঘরটি আরও পরিপাটি ও সাজানো দেখায়।
বারান্দা বা ছাদের সোফা
বাড়িতে যদি বারান্দা বা ছাদ থাকে, সেখানে ছোট একটি বসার জায়গা তৈরি করা যেতে পারে। চা বা কফি খাওয়ার সময়টুকু উপভোগ করতে এমন জায়গা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে খোলা জায়গার জন্য কাঠের সোফার বদলে প্লাস্টিক, বেত বা লোহার কাঠামোর সোফা ব্যবহার করাই ভালো। এগুলো সহজে নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার রাখাও সহজ।
অফিস ও অপেক্ষাকক্ষের সোফা
অফিস বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েটিং রুমে সাধারণত একরঙা ও সরল নকশার সোফা ব্যবহার করা হয়। ছাই, কালো, মেরুন বা হালকা বাদামি রঙের সোফা এসব জায়গায় বেশি মানানসই। এতে পরিবেশটি পরিপাটি ও গম্ভীর দেখায়। জায়গার আকার অনুযায়ী একটি বা একাধিক সোফা রাখা যায়। যাতে অতিথি বা আগতরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন।
সোফার রং ও নকশা
সোফার রং ও নকশা অনেকটাই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কেউ একরঙা সরল সোফা পছন্দ করেন, আবার কেউ নকশাদার কভার ব্যবহার করতে ভালোবাসেন। একরঙা সোফার ওপর উজ্জ্বল রঙের কুশন ব্যবহার করলে ঘরে সহজেই নতুনত্ব আনা যায়। বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে গাঢ় রঙের সোফা বেছে নেওয়াই ভালো। এতে দাগ বা ময়লা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে।
বদলে যাওয়া সোফার ধরন
আগে দেশে কাঠ বা বেতের তৈরি সোফাই বেশি জনপ্রিয় ছিল। এসব সোফায় খোদাই করা নকশা, ফুলেল কভার কিংবা এমব্রয়ডারি দেখা যেত। এখন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। আজকাল চামড়া বা কৃত্রিম চামড়ায় মোড়ানো সোফা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া একক আসনের সোফার পাশাপাশি এখন এল আকৃতির বড় সোফাও অনেকের পছন্দ। এতে একসঙ্গে কয়েকজন আরামে বসতে পারেন। ছোট বাসার জন্য ভাঁজ করে বিছানায় রূপান্তর করা যায়, এমন সোফাও এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
সময়ের সঙ্গে সোফার নকশা ও ধরনে নানা পরিবর্তন এলেও আরামদায়ক এই আসবাবের গুরুত্ব একটুও কমেনি। বরং ঘরের সৌন্দর্য ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে সোফা এখন হয়ে উঠেছে আধুনিক বাসার অন্যতম প্রধান অংশ।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
আরটিভি/জেএমএ




