ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘর সাজাতে সোফা বেছে নিন বুঝে শুনে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত

এক সময় সোফা মানেই ছিল শুধু বসার ঘরের আসবাব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই ধারণা। এখন সোফা শুধু ড্রয়িংরুমেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং শোবার ঘর, বারান্দা এমনকি অফিসের ওয়েটিং রুমেও এর ব্যবহার বেড়েছে। আধুনিক ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে সোফা এখন আর শুধু বসার জায়গা নয়, এটি রুচি ও ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ।

দিন শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে একটু আরাম করে বসা, হাতে এক কাপ চা নিয়ে গল্প করা কিংবা প্রিয় অনুষ্ঠান দেখা। এসব মুহূর্তে সোফা যেন হয়ে ওঠে সবচেয়ে আরামদায়ক সঙ্গী। তাই বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় কেমন সোফা ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে কিছু বিষয় জানা থাকলে ঘর সাজানো আরও সহজ হয়ে যায়।

সোফার ইতিহাস

আজ থেকে প্রায় তিনশ বছর আগে আধুনিক সোফার ব্যবহার শুরু হয়। সপ্তদশ শতাব্দীর আগে মানুষ সাধারণত বেঞ্চ, কাঠের গুঁড়ি বা বিছানায় বসেই সময় কাটাত। পরে কারিগররা নতুন ধরনের আরামদায়ক বসার আসবাব তৈরি করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেখান থেকেই সোফার প্রচলন বাড়তে থাকে।

সোফা শব্দটির উৎপত্তি আরবি ভাষার একটি শব্দ থেকে, যার অর্থ কুশন বিছানো বসার জায়গা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আসবাবের নকশা, উপকরণ ও ব্যবহারেও এসেছে বড় পরিবর্তন।

বসার ঘরের সোফা

বাড়ির বসার ঘরেই সাধারণত সোফার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ঘরের আয়তন অনুযায়ী সোফা নির্বাচন করা উচিত। অনেকেই দুটি দুই আসনের সোফা ও একটি এক আসনের সোফার সমন্বয়ে বসার ঘর সাজান। এতে অতিথি এলে সহজেই সবাই বসার জায়গা পান। ছোট ঘরের জন্য খুব বড় বা ভারী সোফা না নিয়ে তুলনামূলক ছোট ও সরল নকশার সোফা বেছে নেওয়া ভালো। এতে ঘরটি খোলামেলা দেখায়।

শোবার ঘরের সোফা

এখন অনেকেই শোবার ঘরেও সোফা রাখছেন। সেখানে সাধারণত একটি এক আসনের আরামদায়ক সোফা রাখা হয়। কেউ কেউ আবার খাটের পায়ের দিকে লম্বা বেঞ্চের মতো সোফাও ব্যবহার করেন। এতে ঘরটি আরও পরিপাটি ও সাজানো দেখায়।

বারান্দা বা ছাদের সোফা

বাড়িতে যদি বারান্দা বা ছাদ থাকে, সেখানে ছোট একটি বসার জায়গা তৈরি করা যেতে পারে। চা বা কফি খাওয়ার সময়টুকু উপভোগ করতে এমন জায়গা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে খোলা জায়গার জন্য কাঠের সোফার বদলে প্লাস্টিক, বেত বা লোহার কাঠামোর সোফা ব্যবহার করাই ভালো। এগুলো সহজে নষ্ট হয় না এবং পরিষ্কার রাখাও সহজ।

অফিস ও অপেক্ষাকক্ষের সোফা

অফিস বা প্রতিষ্ঠানের ওয়েটিং রুমে সাধারণত একরঙা ও সরল নকশার সোফা ব্যবহার করা হয়। ছাই, কালো, মেরুন বা হালকা বাদামি রঙের সোফা এসব জায়গায় বেশি মানানসই। এতে পরিবেশটি পরিপাটি ও গম্ভীর দেখায়। জায়গার আকার অনুযায়ী একটি বা একাধিক সোফা রাখা যায়। যাতে অতিথি বা আগতরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারেন।

সোফার রং ও নকশা

সোফার রং ও নকশা অনেকটাই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কেউ একরঙা সরল সোফা পছন্দ করেন, আবার কেউ নকশাদার কভার ব্যবহার করতে ভালোবাসেন। একরঙা সোফার ওপর উজ্জ্বল রঙের কুশন ব্যবহার করলে ঘরে সহজেই নতুনত্ব আনা যায়। বাড়িতে ছোট শিশু থাকলে গাঢ় রঙের সোফা বেছে নেওয়াই ভালো। এতে দাগ বা ময়লা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে।

বদলে যাওয়া সোফার ধরন

আগে দেশে কাঠ বা বেতের তৈরি সোফাই বেশি জনপ্রিয় ছিল। এসব সোফায় খোদাই করা নকশা, ফুলেল কভার কিংবা এমব্রয়ডারি দেখা যেত। এখন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে। আজকাল চামড়া বা কৃত্রিম চামড়ায় মোড়ানো সোফা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া একক আসনের সোফার পাশাপাশি এখন এল আকৃতির বড় সোফাও অনেকের পছন্দ। এতে একসঙ্গে কয়েকজন আরামে বসতে পারেন। ছোট বাসার জন্য ভাঁজ করে বিছানায় রূপান্তর করা যায়, এমন সোফাও এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

সময়ের সঙ্গে সোফার নকশা ও ধরনে নানা পরিবর্তন এলেও আরামদায়ক এই আসবাবের গুরুত্ব একটুও কমেনি। বরং ঘরের সৌন্দর্য ও স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে সোফা এখন হয়ে উঠেছে আধুনিক বাসার অন্যতম প্রধান অংশ।

তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস।
বিশ্ব ডিম দিবস আজ
আরও পড়ুন
ভাঙাভাঙি ছাড়াই পুরোনো বাড়ি হবে আধুনিক, জানুন সহজ কৌশল