সজনে ও লাজনা, নাম প্রায় একই রকম হলেও গাছের ধরন, ফুল, ফলন এবং চাষপদ্ধতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। সজনেকে সজনে বা মরিঙ্গা বলা হয়, আর অঞ্চলভেদে লাজনাকেও রাইখঞ্জন বা বহুপল্লভা বলা হয়। দেখতে একই রকম হলেও এদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
প্রধান পার্থক্যগুলো:
উচ্চতা ও গঠন:
সজনে: সোজা ও লম্বা, ১০-১২ মিটার পর্যন্ত হতে পারে। ডালপালা উপরের দিকে বিস্তৃত।
লাজনা: ঝোপজাত বা বামন প্রজাতি, ৪-৬ মিটার উচ্চতা সীমিত। ফলে রক্ষণাবেক্ষণ ও ফল সংগ্রহ সহজ।

কাণ্ড ও চারা প্রক্রিয়া:
সজনে: শক্ত কাণ্ড, পাতলা বাকল। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কাঠের মতো শক্ত হয়। সাধারণত ডাল রোপণ করা হয়।
লাজনা: নরম ও মোটা কাণ্ড, দ্রুত বৃদ্ধি পায় কিন্তু শক্ত নয়। বীজ থেকে চাষ করা হয় প্রধানত।
ফুল ও ফলন:
সজনে: মৌসুমি ফলন, বছরে একবার ফুল আসে। ফুলের রং সাদা বা অফ হোয়াইট। গাছে ফুল আসার সময় পাতা ঝরে যায়।
লাজনা: বারোমাসি, বছরে দুইবার বা সারা বছর ফলন দেয়। ফুল ছোট, গাঢ় ঘেঁয়ে রঙের এবং পাপড়িতে লাল দাগ থাকে। গাছে সাধারণত সব সময় পাতা থাকে। রোপণের ৬-৮ মাসের মধ্যে ফলন আসে।
ডাঁটার গঠন ও স্বাদ:
সজনে: লম্বা, সোজা, আঁশযুক্ত এবং সুস্বাদু। সতেজ সবুজ থাকে।
লাজনা: খাটো, মাংসল, ধূসর-সবুজ, হালকা বাঁকা, স্বাদ কিছুটা তেতো বা কম সুস্বাদু।
সজনে ও লাজনা দুটিরই ঔষধি গুণ আছে এবং বসন্তের বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্ত রাখে। তবে চাষ ও ফলনের সুবিধার দিক থেকে লাজনা নতুন চাষীদের জন্য সুবিধাজনক।
আরটিভি/এসকে




