সন্তান জন্মের পথে শুধু নারীর স্বাস্থ্য নয়, পুরুষের কিছু অভ্যাসও বড় প্রভাব ফেলতে পারে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে সাম্প্রতিক গবেষণা। বিশেষ করে ধূমপান ও গাঁজা সেবনের মতো অভ্যাস পুরুষের শুক্রাণুর গুণমান নষ্ট করে প্রজনন সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি গর্ভপাতের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের নিয়মিত গাঁজা সেবন শুক্রাণুর মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে শুক্রাণুর গঠন, গতি ও স্বাভাবিকতা কমে যায়। এমনকি সপ্তাহে একবার ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে নারীর গর্ভধারণের প্রাথমিক পর্যায়ে গর্ভপাতের ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে বলে একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাঁজার সক্রিয় উপাদান শরীরের প্রজনন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে শুক্রাণুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে করা গবেষণায় ধূমপানের সঙ্গেও পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ধূমপায়ীদের শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকে, গঠন অস্বাভাবিক হয় এবং চলাচলের ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে। একাধিক বড় গবেষণা বলছে, ধূমপান করা পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমে যায় এবং চিকিৎসা সহায়তায় গর্ভধারণের সাফল্যও কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু বর্তমানে অভ্যাস নয়, এমনকি মায়ের গর্ভে থাকাকালীন ধূমপানের সংস্পর্শেও ভবিষ্যতে সন্তানের প্রজনন ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষেত্রেও নারীর গর্ভধারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার প্রমাণ মিলেছে।
তবে সব গবেষণার ফল এক রকম নয়। কিছু গবেষণায় আবার ভিন্ন ফলাফলও পাওয়া গেছে, যেখানে বলা হয়েছে সব ক্ষেত্রে একই ধরনের প্রভাব নাও থাকতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ বিষয়ে আরও গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
তবুও বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ একটাই—সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনায় থাকা দম্পতিদের জন্য সুস্থ জীবনযাপন, ধূমপান ও নেশাজাতীয় অভ্যাস থেকে দূরে থাকা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা
আরটিভি/জেএমএ




