বাংলা নববর্ষ এলেই বাঙালির খাবারের তালিকায় প্রথমেই জায়গা করে নেয় পান্তা ভাত। পহেলা বৈশাখ মানেই পান্তা আর ইলিশের স্বাদে উৎসবের আমেজ। অনেকের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলেও গরমের দিনে এর রয়েছে দারুণ উপকারিতা। পুষ্টিবিদদের মতে, পান্তা ভাত শুধু রসনাতৃপ্তিই নয়, শরীরকেও দেয় স্বস্তি ও শক্তি।
গ্রামবাংলায় বহুদিন ধরেই কৃষকদের সকালের প্রধান খাবার পান্তা ভাত। মাঠে সারাদিন কঠোর পরিশ্রম করার শক্তি জোগাতে এই খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণত আগের দিনের ভাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ ও মাছ ভাজা দিয়ে খাওয়া হয়।
বাংলাদেশে পান্তা ভাত বিশেষ জনপ্রিয় হলেও বিশ্বের আরও কয়েকটি অঞ্চলেও এ খাবারের প্রচলন রয়েছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম, উড়িষ্যা ও তামিলনাডুর কিছু এলাকায় সকালের খাবার হিসেবে পান্তা খাওয়ার অভ্যাস এখনো রয়েছে।
পুষ্টিবিদদের মতে, অনেকেই মনে করেন পান্তা ভাত খেলে ওজন বাড়ে। কিন্তু বাস্তবে ধারণাটি সঠিক নয়। বরং গরমের দিনে এই খাবার শরীরকে সুস্থ রাখতে নানা উপকার করে।
পান্তা ভাতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। যা রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে প্রচুর উপকারী জীবাণু তৈরি হয়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পান্তা ভাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানও বেশি থাকে।
গরমের দিনে পান্তা ভাত শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সাধারণ ভাতের তুলনায় এতে চর্বির পরিমাণও কম থাকে। ফলে শরীর হালকা থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পান্তা ভাত খেলে পেটের নানা সমস্যা ও ঘা কমতে পারে। পাশাপাশি শরীরে শক্তি জোগায় এবং সারাদিন কর্মক্ষম থাকতে সাহায্য করে।
এছাড়া পান্তা ভাত ঘুমের সমস্যাও কমাতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এমনকি ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতেও এটি ভূমিকা রাখে।
তাই গরমের দিনে শুধু ঐতিহ্যের জন্য নয়, শরীরের যত্নেও সকালে পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, লবণ ও সরিষার তেল দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ




