আধুনিক জীবনে মুঠোফোন এখন প্রায় সবার নিত্যসঙ্গী। সকাল থেকে রাত অবধি কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন সবকিছুর জন্যই আমরা নির্ভর করি এই যন্ত্রটির ওপর। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, মুঠোফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের শরীরকে ধীরে ধীরে অকাল বার্ধক্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মুঠোফোন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পর্দা থেকে আসা নীল আলো চোখের ক্ষতি করার পাশাপাশি মস্তিষ্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই আলো শরীরে ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। ফলে ঠিকমতো ঘুম হয় না এবং ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের স্মৃতি ধারণের ক্ষমতা কমতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে মস্তিষ্কের কিছু প্রধান অংশ দুর্বল হয়ে যায়। এতে নতুন কিছু শেখা বা মনে রাখার ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, মুঠোফোনে অতিরিক্ত সময় কাটালে পাকস্থলীর উপকারী জীবাণুর ওপরও খারাপ প্রভাব পড়ে। অথচ শরীরের সুখ ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে যে হরমোন, তার বড় একটি অংশ পাকস্থলীতেই তৈরি হয়। ঘুমের অভাব এবং যন্ত্রনির্ভর জীবনের কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মুঠোফোনের প্রতিটি বার্তা বা সংকেত আমাদের মস্তিষ্কে এক ধরনের উত্তেজনা তৈরি করে। ধীরে ধীরে মানুষ এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং বারবার যন্ত্রটি দেখার অভ্যাস তৈরি হয়। এতে মস্তিষ্ক সবসময় নতুন উদ্দীপনা খুঁজতে থাকে। যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থাকে কিছু বিজ্ঞানী যন্ত্রনির্ভর স্থূলতা বলেও উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত তথ্যের চাপে মস্তিষ্ক বিশ্রামের সুযোগ পায় না। ফলে মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে স্মৃতিভ্রংশ বা বার্ধক্যজনিত নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রায় কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের পর্দা থেকে দূরে থাকা এবং বিকেলের পর চা বা কফির মতো উত্তেজক পানীয় কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি আমাদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার শরীর ও মনের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে হলে মুঠোফোন ব্যবহারে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে জরুরি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
আরটিভি/জেএমএ




