দেশজুড়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমজনিত নানা শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মাইগ্রেনের ব্যথাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন রোগীরা। এ নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত গরম শুধু অস্বস্তি তৈরি করে না। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনে। যার ফলে মাইগ্রেনের তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, গরমে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সক্রিয় হলে রক্তনালি প্রসারিত হয়। এই পরিবর্তনকে মাইগ্রেন রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যথা বাড়ানোর একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হয়।
একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানান, গরমের সময় মাইগ্রেন রোগীদের সমস্যা বাড়ে। তার মতে, পানিশূন্যতা এ ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরে পানির পরিমাণ সামান্য কমলেও মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়ে। ফলে ব্যথার অনুভূতি বেড়ে যায়।
এছাড়া দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তীব্র সূর্যালোকও মাইগ্রেন বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সূর্যের আলো মস্তিষ্কের সংবেদনশীল অংশকে অতিরিক্ত উদ্দীপিত করে। পাশাপাশি গরমে ঘুমের ব্যাঘাত সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা মাইগ্রেন ও সাধারণ মাথাব্যথার পার্থক্যও তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, মাইগ্রেন সাধারণত মাথার এক পাশে তীব্র ও ধকধকে ব্যথা হিসেবে দেখা দেয়। যা নড়াচড়ায় বাড়ে এবং এর সঙ্গে বমিভাব ও আলো সহ্য না করার সমস্যা থাকে। অন্যদিকে পানিশূন্যতার কারণে হওয়া মাথাব্যথা সাধারণত পুরো মাথাজুড়ে হালকা ব্যথা তৈরি করে। যা পানি পান করলে কিছুটা কমে যায়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাইগ্রেন শুরু হলে ঠান্ডা ও অন্ধকার পরিবেশে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি ও প্রয়োজন হলে লবণযুক্ত পানীয় গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে নির্দিষ্ট ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রতিরোধে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান, দীর্ঘ সময় রোদ এড়িয়ে চলা, নিয়মিত খাবার গ্রহণ, হালকা ও পানিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা আরও সতর্ক করে বলেছেন, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে সেটি সাধারণ মাইগ্রেন নাও হতে পারে। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/জেএমএ



