গাড়িতে ভ্রমণ করতে গেলেই অনেকের মাথা ঘোরে, বমি বমি লাগে কিংবা বমি হয়ে যায়। এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় মোশোন সিকনেস। বাস, গাড়ি, ট্রেন, জাহাজ কিংবা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। বিশেষ করে পাহাড়ি বা উঁচু–নিচু পথে চলার সময় এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণের সময় চোখ, কান এবং শরীর থেকে মস্তিষ্কে যে সংকেত যায় সেগুলোর মধ্যে মিল না থাকলেই এই সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসকরা জানান, চলন্ত গাড়িতে বসে কেউ যদি নিচের দিকে তাকিয়ে থাকে বা বই পড়ে, তখন চোখ মস্তিষ্ককে বোঝায় যে শরীর স্থির আছে। কিন্তু কানের ভারসাম্য ব্যবস্থা মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীর আসলে নড়ছে।
এই দুই ধরনের ভিন্ন সংকেতের কারণে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে মাথা ঘোরা, অস্বস্তি এবং শেষ পর্যন্ত বমি হতে পারে।
এছাড়াও চিকিৎসকের মতে, আমাদের কানের ভেতরে একটি ভারসাম্য ব্যবস্থা থাকে। যাকে ভেস্টিবুলার সিস্টেম বলা হয়। এই ব্যবস্থা শরীরের নড়াচড়া সম্পর্কে মস্তিষ্ককে জানায়। যখন চোখ, কান এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ থেকে পাওয়া তথ্য একসঙ্গে মিলতে পারে না। তখন মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয়। এর ফলে মাথা ঘোরা, অস্বস্তি এবং বমি বমি ভাব তৈরি হয়।
কেন ভ্রমণে বমি বাড়ে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উঁচু–নিচু রাস্তা, গাড়ির ঝাঁকুনি, ভেতরের বাজে গন্ধ কিংবা দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে এই সমস্যা বাড়তে পারে।
খালি পেটে ভ্রমণ করলেও সমস্যা হতে পারে। আবার খুব ভারী খাবার খেয়েও যাত্রা শুরু করলে বমি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ভ্রমণের আগে হালকা খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
কী করলে এই সমস্যা কমবে?
এই সমস্যা এড়াতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা—
- ভ্রমণের আগে খুব ভারী খাবার না খাওয়া
- একেবারে খালি পেটেও যাত্রা না করা
- চলন্ত গাড়িতে বই বা মোবাইল না দেখা
- সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসা
- মাথা ও শরীর স্থির রাখা
- বমি বমি লাগলে কিছুক্ষণ গাড়ি থামিয়ে বিশ্রাম নেওয়া
- প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীরা এই সমস্যায় তুলনামূলক বেশি ভোগেন। হরমোনের পরিবর্তন, নিম্ন রক্তচাপ এবং শারীরিক গঠনের কারণেই এমনটা হতে পারে।
তবে যদি ভ্রমণের সময় ঘন ঘন বমি হয় বা সমস্যা খুব বেশি হয়। তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ



