হাঁটুতে ব্যথা, কোমরে টান, আঙুল নাড়াতে কষ্ট বা ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া অনেকেই এসবকে বয়সের স্বাভাবিক সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, হাড়ের সংযোগে এমন ব্যথা অনেক সময় গুরুতর রোগের ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এই ব্যথা সহ্য করলে হাড়ের সংযোগ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি শরীরের অন্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়ন গণমাধ্যমকে বলেন, হাড়ের সংযোগে ব্যথা নিজে কোনো রোগ নয়। বরং এটি বিভিন্ন রোগের লক্ষণ। এর পেছনে একাধিক রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে।
যেসব রোগের ইঙ্গিত হতে পারে
চিকিৎসকদের মতে, হাড়ের সংযোগে ব্যথা হলে কয়েক ধরনের রোগের আশঙ্কা থাকতে পারে—
অস্টিওআর্থ্রাইটিস: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের তরুণাস্থি ক্ষয়ে গিয়ে ব্যথা হয়। অতিরিক্ত ওজন বা আঘাতেও এটি হতে পারে।
রুম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস: শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের হাড়ের সংযোগে আক্রমণ করে। এতে ফোলা ও ব্যথা দেখা দেয়।
লুপাস: জটিল রোগ, যা হাড়ের সংযোগের পাশাপাশি ত্বক, হৃদযন্ত্র ও বৃক্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
গাউট: শরীরে ইউরিক পদার্থ জমে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হয়।
অ্যানকিলোজিং স্পন্ডিলাইটিস: এতে মেরুদণ্ড ও কোমরের সংযোগ শক্ত হয়ে যেতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
সকালে ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ সময় হাড়ের সংযোগ শক্ত লাগা, একাধিক জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, অকারণে জ্বর, ওজন কমে যাওয়া বা ত্বকে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে সমস্যা এড়িয়ে গেলে রোগ আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।
জীবনযাপনের প্রভাব
অতিরিক্ত ওজন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হাড়ের সংযোগে চাপ বাড়ায়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, সুষম খাবার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করলে এসব সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
নারীদের মধ্যে এই ধরনের রোগ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠনের পার্থক্য এর একটি কারণ হতে পারে।
চিকিৎসা ও সতর্কতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত ব্যথানাশক খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। এতে যকৃত, বৃক্ক ও পাকস্থলীর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, ব্যায়াম এবং ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা নিলে অনেক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই হাড়ের সংযোগে ব্যথা হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরটিভি/জেএমএ


