ভাত ছাড়া অনেকের খাবারই যেন অসম্পূর্ণ। তবে সাদা চালের ভাত নাকি বাদামি চাল। কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। পুষ্টিবিদদের মতে, সাদা চালের তুলনায় বাদামি চাল বেশি পুষ্টিকর। এটি দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত বাদামি চাল খেলে শরীরে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিগুণে ভরপুর
বাদামি চাল মূলত সম্পূর্ণ শস্য। এর বাইরের স্তর অক্ষত থাকে বলে এতে আঁশসহ নানা পুষ্টি উপাদান থাকে। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, বিভিন্ন ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
বারডেম হাসপাতালের পুষ্টি বিভাগের সাবেক প্রধান ও পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো গণমাধ্যমকে বলেন, এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে নানা রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
হজমে সাহায্য করে
বাদামি চালে থাকা আঁশ হজমের জন্য খুব উপকারী। এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে। ফলে পেটের নানা সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
শক্তি দেয় ধীরে ধীরে
এই চাল ধীরে হজম হয়। তাই শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে। এতে হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
বাদামি চালের আঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। এতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
বিশেষজ্ঞরা জানান, বাদামি চালে থাকা কিছু পুষ্টি উপাদান রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এতে হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমতে পারে।
কিছু সতর্কতাও প্রয়োজন
যদিও বাদামি চাল খুবই পুষ্টিকর। তবুও প্রতিদিন শুধু এটিই খাওয়া ঠিক নয়। মাঝে মধ্যে অন্য শস্যও খাবারের তালিকায় রাখা ভালো।
যাদের পেটের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে শুরুতে এই চাল খেলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় যোগ করা উচিত এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।
কীভাবে খেলে ভালো
পুষ্টিবিদদের মতে, সুষম খাবারের জন্য প্লেটে শস্য, প্রোটিন ও সবজি একসঙ্গে রাখা জরুরি। শুরুতে সাদা চালের সঙ্গে বাদামি চাল মিশিয়ে খেলে ধীরে ধীরে অভ্যাস করা সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম মেনে এবং সুষম খাদ্যের সঙ্গে বাদামি চাল খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ



