ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাতে ঘুম না আসলে কী করবেন, কী করবেন না! 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

রাতে বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুম না আসা, মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গিয়ে আর না আসা। এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় অনিদ্রা। এটি এখন অনেক মানুষের জীবনের সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক সমস্যা হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিদ্রা শুধু একটি সমস্যা নয়। বরং এটি শরীর ও মস্তিষ্কের নানা পরিবর্তনের লক্ষণ। দুশ্চিন্তা, বয়স, জীবনযাপন, কাজের চাপ এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। সব মিলিয়ে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

কেন ঘুম আসে না

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম আসা এবং জেগে ওঠা এই দুটি প্রক্রিয়া শরীরের হরমোন এবং দৈনন্দিন চাপের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। এই ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটলেই ঘুমের সমস্যা শুরু হয়। দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ মস্তিষ্কে এমন সংকেত তৈরি করে, যা শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় বা ঘুম ভেঙে যায়।

অনিদ্রার লক্ষণ

অনিদ্রা হলে সাধারণত দেখা যায়—

  • ঘুম আসতে অনেক দেরি হওয়া
  • মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া
  • ভোর পর্যন্ত জেগে থাকা
  • দিনের বেলায় ক্লান্তি অনুভব করা

যদি এই সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে এটি অনিদ্রা হিসেবে ধরা হয়।

কী করা উচিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম না এলে জোর করে বিছানায় পড়ে থাকার চেয়ে কিছু পরিবর্তন আনা ভালো—

  • ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া
  • হালকা বই পড়া বা শান্ত কাজ করা
  • কিছুক্ষণ পর আবার বিছানায় ফিরে যাওয়া
  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা
  • ঘুমের জায়গা শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার করা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম জোর করে আনা যায় না, এটি স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে হয়।

কী করা উচিত নয়

অনিদ্রার সময় কিছু অভ্যাস সমস্যা আরও বাড়াতে পারে—

  • বিছানায় বসে কাজ করা
  • মোবাইল বা উত্তেজনামূলক কিছু দেখা
  • ঘুমানোর জন্য অতিরিক্ত চাপ নেওয়া
  • দীর্ঘ সময় বিছানায় এপাশ-ওপাশ করা

জীবনযাপনের প্রভাব

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অনিয়মিত জীবন, রাতের শিফটে কাজ, মদ্যপান এবং বয়স বৃদ্ধির কারণে ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোন পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চিকিৎসার বিকল্প

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের ওপর নির্ভর না করে আচরণ ও চিন্তার ধরন পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়মিত ঘুমের রুটিন ও মানসিক চাপ কমানো সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই সঠিক জীবনযাপন ও অভ্যাস গড়ে তুললে বেশিরভাগ মানুষই অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
সকালে ঘুম ভাঙার পর যে ৫ অভ্যাস এড়িয়ে চলবেন