রাতে বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুম না আসা, মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গিয়ে আর না আসা। এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় অনিদ্রা। এটি এখন অনেক মানুষের জীবনের সাধারণ কিন্তু কষ্টদায়ক সমস্যা হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিদ্রা শুধু একটি সমস্যা নয়। বরং এটি শরীর ও মস্তিষ্কের নানা পরিবর্তনের লক্ষণ। দুশ্চিন্তা, বয়স, জীবনযাপন, কাজের চাপ এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন। সব মিলিয়ে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
কেন ঘুম আসে না
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম আসা এবং জেগে ওঠা এই দুটি প্রক্রিয়া শরীরের হরমোন এবং দৈনন্দিন চাপের ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করে। এই ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটলেই ঘুমের সমস্যা শুরু হয়। দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপ মস্তিষ্কে এমন সংকেত তৈরি করে, যা শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয় বা ঘুম ভেঙে যায়।
অনিদ্রার লক্ষণ
অনিদ্রা হলে সাধারণত দেখা যায়—
- ঘুম আসতে অনেক দেরি হওয়া
- মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া
- ভোর পর্যন্ত জেগে থাকা
- দিনের বেলায় ক্লান্তি অনুভব করা
যদি এই সমস্যা দীর্ঘদিন চলতে থাকে, তাহলে এটি অনিদ্রা হিসেবে ধরা হয়।
কী করা উচিত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম না এলে জোর করে বিছানায় পড়ে থাকার চেয়ে কিছু পরিবর্তন আনা ভালো—
- ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠে যাওয়া
- হালকা বই পড়া বা শান্ত কাজ করা
- কিছুক্ষণ পর আবার বিছানায় ফিরে যাওয়া
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগা
- ঘুমের জায়গা শুধু ঘুমের জন্য ব্যবহার করা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম জোর করে আনা যায় না, এটি স্বাভাবিকভাবে আসতে দিতে হয়।
কী করা উচিত নয়
অনিদ্রার সময় কিছু অভ্যাস সমস্যা আরও বাড়াতে পারে—
- বিছানায় বসে কাজ করা
- মোবাইল বা উত্তেজনামূলক কিছু দেখা
- ঘুমানোর জন্য অতিরিক্ত চাপ নেওয়া
- দীর্ঘ সময় বিছানায় এপাশ-ওপাশ করা
জীবনযাপনের প্রভাব
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, অনিয়মিত জীবন, রাতের শিফটে কাজ, মদ্যপান এবং বয়স বৃদ্ধির কারণে ঘুমের সমস্যা বাড়তে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে হরমোন পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসার বিকল্প
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের ওপর নির্ভর না করে আচরণ ও চিন্তার ধরন পরিবর্তনের মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নিয়মিত ঘুমের রুটিন ও মানসিক চাপ কমানো সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই সঠিক জীবনযাপন ও অভ্যাস গড়ে তুললে বেশিরভাগ মানুষই অনিদ্রা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।
আরটিভি/জেএমএ




